জাতীয়

রাজধানীতে আরও ১১ হাজার সিসি ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা ডিএমপির

আপডেট: মে ০৮, ২০২৬ : ০৫:৫১ এএম
রাজধানীতে আরও ১১ হাজার সিসি ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা ডিএমপির

রাজধানীতে কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাস, ছিনতাই ও মাদক–সংক্রান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নজরদারি বাড়াচ্ছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এ লক্ষ্যে মহানগরজুড়ে আরও ১১ হাজার সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

ডিএমপি বলছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে ব্লক রেইড, পুলিশি টহল, বিভিন্ন সড়কে চেকপোস্ট এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।

ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেন, মহানগরজুড়ে ১১ হাজার সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। এর মধ্যে মোহাম্মদপুর এলাকায় কিশোর গ্যাং ও ছিনতাই ঠেকাতে ৭০০ ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব ক্যামেরা স্থাপন করা হলে রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মো. সরওয়ার বলেন, মোহাম্মদপুরকে অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে সেখানে আরও একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হবে। সম্প্রতি বসিলা এলাকায় একটি পুলিশ ফাঁড়ি উদ্বোধন করা হয়েছে এবং সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি রাজধানীর ৫০টি থানায় অতিরিক্ত উপ–পুলিশ কমিশনার (এডিসি), সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) ও পেট্রোল ইন্সপেক্টর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে। বিশেষ করে মোহাম্মদপুর এলাকায় ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধে জড়িত কিশোর গ্যাং সদস্যদের আইনের আওতায় আনা হবে।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ–পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ১ হাজার ৯১০টি সিসি ক্যামেরা সচল রয়েছে। এসব ক্যামেরার সহায়তায় চুরি–ছিনতাই প্রতিরোধ, অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং যানজট নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হচ্ছে।

তিনি জানান, নতুন একটি প্রকল্পের আওতায় আরও সিসি ক্যামেরা কেনার প্রক্রিয়া চলছে এবং এ জন্য টেন্ডার কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। বর্তমানে ডিএমপি ও সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রায় ৭১০টি এবং গুলশান–বনানীসহ বিভিন্ন এলাকার বাড়ির মালিকদের সংগঠনের উদ্যোগে আরও প্রায় ১ হাজার ২০০টি ক্যামেরা পরিচালিত হচ্ছে।

এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, স্থায়ী ক্যামেরার পাশাপাশি বিভিন্ন জাতীয় দিবস ও বড় আয়োজনকে কেন্দ্র করে অস্থায়ী ক্যামেরাও স্থাপন করা হয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, এবারের পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে প্রায় ১৭৫টি অস্থায়ী সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে ক্যামেরাগুলোর কার্যক্রম সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হয়। কোনো ক্যামেরায় ত্রুটি দেখা দিলে দ্রুত তা মেরামত বা পরিবর্তনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কন্ট্রোল রুম থেকে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে রেসপন্স টিম পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলেও জানান তিনি।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!