হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পানি ব্যবস্থাপনা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও টেকসই অবকাঠামো গড়ে তুলতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদি সমন্বিত কর্মসূচি নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
শুক্রবার সিলেট সার্কিট হাউসে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অর্থ উপদেষ্টা বলেন, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, নদী দখল, পলি জমে পানি নিষ্কাশনে বাধা, জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হাওরাঞ্চলের সংকট আরও গভীর হয়েছে। এসব সমস্যার টেকসই সমাধানে সরকার সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের কাজ শুরু করেছে।
তিনি বলেন, “আমরা শুধু মানবিক সহায়তা নয়, হাওরাঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান চাই। আগামী পাঁচ বছরে কৃষি, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।”
ড. তিতুমীর বলেন, অতীতে হাওরাঞ্চলে বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হলেও সেগুলোর অনেকই ছিল বিচ্ছিন্ন ও অপরিকল্পিত। ফলে নদী ও জলাভূমির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়েছে, অনেক সুইস গেট অকার্যকর হয়ে পড়েছে এবং জলাবদ্ধতা বেড়েছে।
সাম্প্রতিক অকাল বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ইতোমধ্যে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং তালিকাভুক্ত পরিবারগুলোকে তিন মাস সহায়তা দেওয়া হবে।
হাওরাঞ্চলের সংকট মোকাবিলায় নদী ও খাল খনন, জলমগ্ন ও ডুবন্ত সড়ক নির্মাণ, সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা, হাওর উপযোগী ধানের জাত উদ্ভাবন এবং কৃষিযন্ত্র সরবরাহের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “আমরা এমন ধানের জাত চাই, যাতে অকাল বৃষ্টির আগেই কৃষক ফসল ঘরে তুলতে পারেন। একই সঙ্গে হারভেস্টার, ড্রায়ার ও অন্যান্য কৃষি সরঞ্জামের ব্যবস্থাও জরুরি।” জীববৈচিত্র্য ধ্বংস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের কারণে দেশীয় মাছের সংখ্যা কমছে এবং পরাগায়ন ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। টাঙ্গুয়ার হাওরের মতো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রামসার সাইটও বর্তমানে হুমকির মুখে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সভায় তিনি আরও বলেন, হাওর ও জলাশয়-সংক্রান্ত নতুন আইনের আওতায় কৃষি, মৎস্য, পানি সম্পদ, পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
গত ১৭ বছরে হাওরাঞ্চলে নেওয়া অনেক প্রকল্পকে ‘লুটপাট ও পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, টেকসই পরিকল্পনার অভাবেই সংকট বেড়েছে।
সভায় সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!