প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিদেরও অন্য সব নাগরিকের মতো পূর্ণ মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। তিনি বলেন, একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তুলতে তাদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার বিকল্প নেই।
‘বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে মঙ্গলবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বছরের প্রতিপাদ্য—‘অটিজম কোনো সীমাবদ্ধতা নয়, প্রতিটি জীবন মূল্যবান’—সময়ের সঙ্গে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তিনি বলেন, যথাযথ পরিচর্যা ও সহায়তার মাধ্যমে অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিদের সক্ষমতা বিকাশ এবং সমাজে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।
প্রধানমন্ত্রী দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশু, ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে চিকিৎসক, থেরাপিস্ট, সহায়ক প্রযুক্তি উদ্ভাবক এবং অটিজম নিয়ে কাজ করা সরকারি-বেসরকারি সংগঠনগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু ও ব্যক্তি অটিজম এবং স্নায়ুবিকাশজনিত সমস্যায় আক্রান্ত। এ বাস্তবতায় সরকার একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ গঠনে কাজ করছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জন্য বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষাবৃত্তি ও শিক্ষা উপকরণ সরবরাহসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে প্রতিটি মানুষ নিজের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পাবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা, সামাজিক সক্ষমতা ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
খেলাধুলায় আগ্রহী অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আরও বেশি মানুষ যেন প্যারা-অলিম্পিকে অংশ নিতে পারেন, সে লক্ষ্যেও সরকার কাজ করছে।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্মিলিত উদ্যোগ ও মানবিক দায়বদ্ধতার মাধ্যমে এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব, যেখানে সব মানুষ সমান সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে জীবনযাপন করতে পারবে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!