জাতীয়

উপজেলা পর্যায়ে এআই ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়বে সরকার

আপডেট: মে ১৭, ২০২৬ : ০৪:৩২ এএম
উপজেলা পর্যায়ে এআই ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়বে সরকার

দেশের তরুণদের প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে উপজেলা পর্যায়ে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, নতুন প্রজন্মকে আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে পারলে দেশে কর্মসংস্থান বাড়বে, পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

শনিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত ‘টেলিকম খাতের ভবিষ্যৎ: নতুন সরকার কী ভাবছে’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, টেলিকম খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের দায়িত্বও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, তথ্য-উপাত্ত ও পরিসংখ্যানভিত্তিক বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ হলে সরকার নিজেদের ভুল-ত্রুটি সংশোধনের সুযোগ পাবে। তবে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ হলে জবাবদিহির সংস্কৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

টেলিকম খাতের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সবার জন্য নির্ভরযোগ্য ও উচ্চগতির ইন্টারনেট নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে লাস্ট মাইল ফাইবার সংযোগ সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি চরাঞ্চল, পাহাড়ি ও উপকূলীয় এলাকাগুলোতে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সংযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ধাপে ধাপে বড় শহর, শিল্পাঞ্চল ও বিমানবন্দরে ফাইভজি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করা হবে। একই সঙ্গে এআই, ক্লাউড, ডেটা সেন্টার ও স্মার্ট কানেক্টিভিটি সেবার জন্য আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজ চলছে।

সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী। তিনি বলেন, ডিজিটাল যুগে শুধু সংযোগ নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়, নিরাপদ সংযোগও জরুরি। এ জন্য জাতীয় তথ্য ব্যবস্থাপনা, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা এবং সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে আধুনিক আইন ও নীতিমালা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠানটি বিক্রির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। তবে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে টেলিটকের বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন। সে জন্য বিদেশি বিনিয়োগ বা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) সুযোগ খোঁজা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাজারে টেলিটকের উপস্থিতি থাকায় বেসরকারি অপারেটরগুলো ইচ্ছামতো দাম বাড়াতে পারে না। প্রতিযোগিতামূলক বাজার বজায় রাখতে রাষ্ট্রীয় অপারেটরের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

মন্ত্রী আরও বলেন, টেলিকম খাতে ব্যয় কমানো ও সেবার মান বাড়াতে অবকাঠামো শেয়ারিং, নিরপেক্ষ ডেটা সেন্টার এবং ক্যারিয়ার নিউট্রাল সুবিধা সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সহায়ক পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

টিআরএনবির সভাপতি সমীর কুমার দে’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মাসুদুজ্জামান রবিন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রবির হেড অব রেগুলেটরি অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স সাহেদ আলম।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া মুখ্য আলোচক হিসেবে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী, মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (এমটব) মহাসচিব লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ জুলফিকারসহ খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!