মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের তালিকায় ভুলবশত অন্তর্ভুক্ত কিছু নাম পরবর্তীকালে বাদ দেওয়া হয়েছে। যাঁরা সরাসরি জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না কিংবা আন্দোলনের বিপরীতে অবস্থান নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন, তাঁদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ইশরাক হোসেন বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জুলাই আন্দোলনের শহীদদের তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়। জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জনের নাম উল্লেখ থাকলেও গেজেটভুক্তির প্রক্রিয়ায় কিছু নাম নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে এবং কিছু নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন করে ১২ জন জুলাই যোদ্ধাকে গেজেটভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ভুলবশত অন্তর্ভুক্ত কিছু নাম যাচাই-বাছাই শেষে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
আহত ও শহীদ পরিবারের পুনর্বাসনে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্যে জুলাই গণ–অভ্যুত্থান অধিদপ্তর গঠন করা হয়েছে। এটি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি সংস্থা হিসেবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, আহতদের এ, বি ও সি—এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। গুরুতর আহতদের অনেকেই স্থায়ীভাবে কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন, আবার কেউ কেউ আংশিক সক্ষমতা হারিয়েছেন। তাঁদের শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে আলাদা প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
ইশরাক হোসেন বলেন, যাঁদের শারীরিক সক্ষমতা সীমিত হয়ে গেছে, তাঁদের প্রযুক্তিনির্ভর কাজসহ বিভিন্ন পেশায় যুক্ত করতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সমাজকল্যাণ, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয়ে আহতদের আত্মনির্ভরশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা শুধু ভাতার ওপর নির্ভর করতে চান না; তাঁরা মর্যাদাপূর্ণ জীবন ও কর্মসংস্থান চান। সে লক্ষ্যেই পুনর্বাসন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
জুলাই ফাউন্ডেশন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি বর্তমানে একটি এনজিও হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সরকারের অধীনস্থ অধিদপ্তরের সঙ্গে এর কার্যক্রম সমন্বয়ের বিষয়ে নীতিগত আলোচনা চলছে। ফাউন্ডেশনের ডাটাবেজ ও অভিজ্ঞতা রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা গেলে শহীদ ও আহতদের পুনর্বাসনে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!