জাতীয়

কোরবানির চামড়া বাঁচাতে সরকারের বহুমুখী উদ্যোগ

আপডেট: মে ১৯, ২০২৬ : ০৫:০৭ এএম
কোরবানির চামড়া বাঁচাতে সরকারের বহুমুখী উদ্যোগ

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ ও চামড়া শিল্পকে সচল রাখতে একগুচ্ছ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিনামূল্যে লবণ বিতরণ, চামড়া ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ ঋণ সুবিধা এবং বিসিক চামড়া শিল্পনগরীতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

চামড়া শিল্পের সংকট মোকাবিলা ও মানসম্মত কাঁচা চামড়া সংরক্ষণের লক্ষ্যে গঠিত টাস্কফোর্স সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে সারাদেশের মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে বিনামূল্যে লবণ বিতরণ করা হবে। এজন্য ইতোমধ্যে ১৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার লবণ ক্রয়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সময়মতো লবণ পৌঁছে দেওয়া গেলে বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমবে।

চামড়া সংরক্ষণের পাশাপাশি কোরবানির পশুর চামড়া সঠিকভাবে ছাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে মাংস শ্রমিক ও মসজিদের ইমামদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চামড়ার মান উন্নয়ন এবং অপচয় কমিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত বছরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে টাস্কফোর্স জানায়, ৯ হাজার ৩৩০টি মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের জন্য ২০ কোটি টাকার লবণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১১ হাজার ৫৭১ মেট্রিক টন লবণ কেনার কথা থাকলেও জেলা পর্যায়ের চাহিদা অনুযায়ী শেষ পর্যন্ত ৮ হাজার ৯৬ মেট্রিক টন লবণ বিতরণ করা হয়। এতে প্রায় ১৩ লাখ ৮০ হাজার চামড়া সংরক্ষণ সম্ভব হয়েছিল।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সংখ্যা ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। এর মধ্যে গরু ও মহিষ প্রায় ৫৭ লাখ, ছাগল ও ভেড়া ৬৬ লাখ এবং অন্যান্য পশু রয়েছে সাড়ে পাঁচ হাজারের মতো। কোরবানির সম্ভাব্য চাহিদা এক কোটির কিছু বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই বিপুল সংখ্যক পশুর চামড়া সংরক্ষণে এ বছর ৮০ থেকে ৮৫ হাজার মেট্রিক টন লবণের প্রয়োজন হতে পারে বলে প্রাথমিক হিসাব করা হয়েছে। গত বছর ব্যবহৃত হয়েছিল প্রায় ৭০ হাজার মেট্রিক টন লবণ।

টাস্কফোর্স জানিয়েছে, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ নিশ্চিতের পাশাপাশি পশুর হাট ও স্থানীয় বাজারেও লবণের মজুত রাখা হবে। একই সঙ্গে লবণ ডিলার ও মিল মালিকদের তালিকা সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চামড়া সংগ্রহ ও বাজার ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে দেশব্যাপী চামড়া আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের একটি খসড়া ডাটাবেজও প্রস্তুত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তাদের নিবন্ধনের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

অন্যদিকে, কোরবানির মৌসুমে চামড়া কেনা ও সংরক্ষণে ব্যবসায়ীদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ঋণ সুবিধা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত ৫ মে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পুনঃতফসিল বা খেলাপি ঋণ থাকা চামড়া ব্যবসায়ীরাও আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত নতুন মূলধনী ঋণ নিতে পারবেন। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোকে চলতি বছর চামড়া খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে, যা ২০২৫ সালের তুলনায় কম রাখা যাবে না।

চামড়া শিল্পের উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখতে বিসিক চামড়া শিল্পনগরী এলাকায় ঈদের পরবর্তী তিন মাস নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ধারিত ভোল্টেজে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পবিস-৩, আরইবি এবং পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়া সিইটিপিতে ডেডিকেটেড এক্সপ্রেস ফিডার লাইনের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখা, শিল্পনগরী ও সিইটিপিতে জরুরি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু রাখা এবং সাভার গ্রিড থেকে বিশেষ লোড বরাদ্দের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!