জাতীয়

জাদুঘর অতীত-বর্তমানের জীবন্ত দলিল: সংস্কৃতি মন্ত্রী

আপডেট: মে ১৯, ২০২৬ : ০৫:১১ এএম
জাদুঘর অতীত-বর্তমানের জীবন্ত দলিল: সংস্কৃতি মন্ত্রী

সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, জাদুঘর শুধু অতীত ঐতিহ্যের সংগ্রহশালা নয়, এটি মানবসভ্যতার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের জীবন্ত দলিল। বর্তমান বিভক্ত বিশ্বে সামাজিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও বৈশ্বিক সেতুবন্ধন তৈরিতে জাদুঘর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

রোববার আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ বছরের আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘বিভক্ত বিশ্বের সেতুবন্ধনে জাদুঘর’। দিবসটি উপলক্ষে সকালে জাতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শাহবাগ মোড় ও টিএসসি এলাকা প্রদক্ষিণ শেষে আবার জাদুঘর প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।

পরে জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী প্রদর্শনী গ্যালারিতে ‘সভ্যতায় কৃষি ও প্রকৃতি’ শীর্ষক বিশেষ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি মন্ত্রী। আগামী ২৩ মে পর্যন্ত প্রদর্শনীটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সময়ে ডিজিটাল আর্কাইভ, ভার্চুয়াল প্রদর্শনী ও ইন্টারঅ্যাক্টিভ কার্যক্রমের মাধ্যমে জাদুঘরকে আরও আধুনিক ও জনসম্পৃক্ত করে তুলতে হবে। এতে নতুন প্রজন্ম নিজেদের ইতিহাস ও শেকড় সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানতে পারবে।

তিনি জাতীয় জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারির প্রশংসা করে বলেন, বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ গ্যালারি নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার ইতিহাসকে জীবন্তভাবে তুলে ধরছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর পর্ষদের সভাপতি স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য, সম্প্রচার ও সংস্কৃতি উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা।

জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাদুঘরের সচিব মো. সাদেকুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জনশিক্ষা বিভাগের কীপার আসমা ফেরদৌসি।

বিশেষ অতিথিদের বক্তব্যে ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণ, সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা এবং জাদুঘরের আধুনিকায়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

আলোচনা সভা শেষে বিকেলে জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে দেশবরেণ্য শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপী আয়োজনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে জাদুঘর প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!