বাংলাদেশ ও মরক্কোর মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়াতে প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে বিজনেস টু বিজনেস (বি-টু-বি) প্ল্যাটফর্ম। এর মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার মধ্যে নতুন বাণিজ্যিক সংযোগ তৈরির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
মরক্কোর রাজধানী রাবাতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্ল্যাটফর্মটির উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। দুই দিনের মরক্কো সফরের অংশ হিসেবে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই প্ল্যাটফর্ম শুধু বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যেও কাজ করবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। পাশাপাশি ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি, চামড়া, সিরামিক, হালকা প্রকৌশল ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। মরক্কোর ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশকে সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত পণ্যের সম্ভাবনাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিবেশবান্ধব ও পচনশীল পণ্যের চাহিদা বিশ্বজুড়ে বাড়ছে। বিশেষ করে আফ্রিকার দেশগুলো একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক কমানোর উদ্যোগ নেওয়ায় পাটজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মরক্কো চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি হাসান সাখীর সঙ্গে যৌথভাবে ফিতা কাটেন প্রতিমন্ত্রী। রাবাতে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মরক্কো চেম্বার অব কমার্স, ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড সার্ভিসেস যৌথভাবে এই আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রায় ৩০ জন মরক্কান ব্যবসায়ী এবং সাত সদস্যের বাংলাদেশি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগামী বছরের নভেম্বরে মরক্কোর একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা রয়েছে। সফরে তারা দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল, শিল্প এলাকা ও উদ্ভাবন কেন্দ্র পরিদর্শন করবেন।
অনুষ্ঠানে মরক্কোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফাইজুন্নেসাও বক্তব্য দেন। এদিকে সফরের অংশ হিসেবে রাবাতের মরক্কান ইনস্টিটিউট ফর ট্রেনিং, রিসার্চ অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাটিক স্টাডিজে ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি: আফ্রিকায় মনোযোগ’ শীর্ষক এক বক্তৃতা দেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে সরকার এমন একটি পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে, যার লক্ষ্য জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা।
বাংলাদেশ ও আফ্রিকার মধ্যে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!