ঈদুল আজহাকে ঘিরে ঝিনাইদহে কোরবানির পশুর হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম বাড়তে শুরু করেছে। এর মধ্যে ৪ থেকে ৫ মণ ওজনের মাঝারি গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা।
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা গেছে, গৃহস্থ ও খামারিরা পশু পরিচর্যা ও বিক্রির শেষ প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পাশাপাশি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত বেপারিরাও হাটে এসে কোরবানিযোগ্য পশু সংগ্রহ করছেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ঝিনাইদহের ছয় উপজেলায় মোট ২ লাখ ৫২ হাজার ৩৯৭টি গবাদিপশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯৩ হাজার ৫৭২টি গরু, ১ হাজার ৩৩৪টি মহিষ, ১ লাখ ৪৮ হাজার ২৩০টি ছাগল এবং ৯ হাজার ২৬১টি ভেড়া ও গাড়ল রয়েছে।
প্রাণিসম্পদ বিভাগ বলছে, জেলায় কোরবানির স্থানীয় চাহিদা প্রায় ১ লাখ ৯৫ হাজার ৪২০টি পশু। ফলে চাহিদা মিটিয়ে এবার প্রায় ৫৬ হাজারের বেশি পশু উদ্বৃত্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব পশু ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ শুরু হয়েছে।
হাটে আসা ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা জানান, মাঝারি আকারের ৪ থেকে সাড়ে ৫ মণ ওজনের গরুর চাহিদা তুলনামূলক বেশি। এই ধরনের গরুর দাম স্থানীয় বাজারে ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার মধ্যে উঠানামা করছে।
স্থানীয় ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাংসের ওজনের হিসাব ধরে গরুর দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে। ফলে কেজিপ্রতি গরুর মাংসের দাম গড়ে প্রায় ৭৪০ থেকে ৯০০ টাকার মধ্যে উঠছে।
হাট সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকাসহ বড় শহরের বেপারিরা স্থানীয় বাজারের তুলনায় কিছুটা বেশি দামে পশু কিনলেও পরিবহন ও অন্যান্য খরচ যুক্ত হওয়ায় শহরের বাজারে দাম তুলনামূলক বেশি পড়ে যাচ্ছে।
সদর উপজেলার বৈডাঙ্গা পশুর হাটের ক্রেতা ও ব্যবসায়ী সেলিম বেপারি বলেন, পশুখাদ্যের দাম বেড়েছে। এতে খামারিদের উৎপাদন খরচও বেড়েছে। তবে এবার বড় গরুর তুলনায় মাঝারি গরুর বেচাকেনাই বেশি হচ্ছে।
গো-খামারি রায়হান হাসান বলেন, খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় খরচ অনেক বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে বাজারে দাম পাওয়া যাচ্ছে না।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আতিকুজ্জামান বলেন, ঝিনাইদহে গবাদিপশু পালন এখন একটি বড় অর্থনৈতিক খাতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত পশু উৎপাদিত হওয়ায় এবার উদ্বৃত্ত পশু দেশের অন্যান্য জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে এবার খামারিরা তুলনামূলক ভালো লাভ পাবেন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!