বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং টেকসই অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক।
জাতীয় সংসদে আগামী বাজেট উপস্থাপনের আগে বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলার পাশাপাশি সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোর নিয়মতান্ত্রিক বাস্তবায়নই হওয়া উচিত দেশের প্রধান অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার।
ড. এনামুল হক বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন করে বৈশ্বিক খাদ্য সংকট তৈরি করতে পারে। এতে পণ্যের দাম বাড়বে, সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হবে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে।
তিনি বলেন, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ খাদ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারি খাদ্য সংগ্রহ ও আমদানির জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন।
বিআইডিএস মহাপরিচালক বলেন, শুধু নগদ সহায়তার ওপর নির্ভর করলে হবে না। বাজারে খাদ্যের সরবরাহ না বাড়লে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের দেশে ফেরার ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। দেশে ফিরে আসা শ্রমিকদের পুনর্বাসনে সহজ শর্তে ঋণসহ সহায়তা দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে ড. এনামুল বলেন, তাপপ্রবাহ, আকস্মিক বন্যা ও ফসলহানিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে আরও বেশি সহায়তা দিতে হবে। বিশেষ করে হাওরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু পালনের মতো আয়বর্ধক কার্যক্রমে সহায়তা বাড়ানোর পরামর্শ দেন।
ওএমএস কার্যক্রম সম্প্রসারণেরও আহ্বান জানান এই অর্থনীতিবিদ। তিনি বলেন, চাল ও ডালের পাশাপাশি ওএমএসে ডিম অন্তর্ভুক্ত করা হলে একদিকে যেমন পুষ্টি নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে দেশীয় উৎপাদকরাও উপকৃত হবেন।
ড. এনামুল হক বলেন, কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড ব্যবস্থাকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা গেলে সামাজিক সুরক্ষা ও কৃষি সহায়তা কর্মসূচির সুফল বাড়বে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচিকে একীভূত করা গেলে সরকারের আর্থিক চাপও কমবে।
বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্য রুটে অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশকে এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক সংযোগ আরও জোরদার করতে হবে। বিশেষ করে ভারতের মতো বড় বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
আসন্ন বাজেট প্রসঙ্গে ড. এনামুল বলেন, অতিরিক্ত উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলার দিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তার মতে, আগামী পাঁচ বছরের জন্য শক্ত অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরি করাই বাজেটের মূল লক্ষ্য হওয়া প্রয়োজন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!