চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো বড় উন্নয়নকাজ শতভাগ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার নুরুল করিম উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকার এসব প্রকল্প আট থেকে দশ বছর ধরে চলমান রয়েছে। এখন সময় এসেছে কাজগুলো শেষ করে জনগণকে পূর্ণ সুফল পৌঁছে দেওয়ার।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামের বড় প্রকল্পগুলোর ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে ছোট কিছু জটিলতা বা ‘বটলনেক’-এর কারণে মানুষ পুরো সুবিধা পাচ্ছে না। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান করাই এবারের সফরের মূল উদ্দেশ্য।
জাকারিয়া তাহের জানান, চট্টগ্রাম ওয়াসার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং সংস্থাটি আগামী ৩০ জুনের মধ্যে তাদের অংশের কাজ শেষ করার আশ্বাস দিয়েছে। ফ্লাইওভারের র্যাম্পের কাজ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সেপ্টেম্বরের মধ্যেই তা শেষ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড জানিয়েছে, প্রকল্পের কাজ প্রায় ৯৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, চলতি বর্ষাতেই নগরবাসী এর সুফল পেতে শুরু করবে।
প্রকল্পের কাজ খণ্ডিতভাবে বাস্তবায়নের কারণে সুফল নিয়ে যে শঙ্কা রয়েছে, সে বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সিডিএর পাশাপাশি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনও ছোট ছোট খাল নিয়ে কাজ করছে। এটি সমন্বিত উদ্যোগের অংশ। কোথাও ত্রুটি থাকলে তা দ্রুত সমাধান করা হবে।
ভবন নির্মাণে অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘনের বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথাও জানান গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভবন নির্মাণে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। এখন থেকে শুধু স্থাপত্য নকশা নয়, স্ট্রাকচারাল, ইলেকট্রোমেকানিক্যাল ও প্লাম্বিংসহ পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা একসঙ্গে জমা দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কাজ শেষ হওয়ার পর ভবনের জন্য অকুপেন্সি সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটলে সেই সনদ মিলবে না। আর সনদ ছাড়া কোনো ভবনে গ্যাস, বিদ্যুৎ বা পানির সংযোগও দেওয়া হবে না।
অতীতে আইন অমান্য করে গড়ে ওঠা ভবনগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদ মাত্র তিন মাস। অতীতে কী হয়েছে, তা নিয়ে মন্তব্য করতে চান না। তবে যারা নকশা লঙ্ঘন করেছেন, তাদের আইনের আওতায় আনার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
চট্টগ্রাম সফরে এর আগে সকালে মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
আরএস-
No comments yet. Be the first to comment!