জাতীয়

জাতীয় নদী দিবস পালিত হচ্ছে আজ

আপডেট: মে ২৩, ২০২৬ : ০৬:১২ এএম ১৭
জাতীয় নদী দিবস পালিত হচ্ছে আজ

সারাদেশে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আজ শনিবার পালিত হচ্ছে জাতীয় নদী দিবস। নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রাণ-প্রকৃতি, অর্থনীতি, কৃষি ও সংস্কৃতিতে নদীর গুরুত্ব তুলে ধরতে প্রতি বছরের মতো এবারও দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।

এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—“নদী বাঁচলে দেশ বাঁচবে, নদী রক্ষায় সবাই এগিয়ে আসুন।” দিবসটি উপলক্ষে রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় আলোচনা সভা, সেমিনার, র‌্যালি, নদী পরিষ্কার অভিযান, বৃক্ষরোপণ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সরকারি দপ্তর, পরিবেশবাদী সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলো নদী রক্ষায় জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।

এ উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করেছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অর্থনৈতিক বিকাশ নদীকেন্দ্রিক। কৃষি উৎপাদন, নৌপরিবহন, মৎস্যসম্পদ এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় নদীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে অপরিকল্পিত দখল, দূষণ, শিল্পবর্জ্য ও পলিথিন ফেলার কারণে দেশের বহু নদী এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বিশেষ করে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীর দূষণ পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগের বিষয় হয়ে আছে।

পরিবেশবিদদের মতে, নদী শুধু পানির উৎস নয়, এটি একটি জীবন্ত প্রতিবেশ ব্যবস্থা। নদী রক্ষা করা গেলে কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সংরক্ষণ সম্ভব হবে। অন্যদিকে নদী ধ্বংস হলে জলাবদ্ধতা, বন্যা, খরা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে।

সরকার নদী রক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে নদীর সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, খনন কার্যক্রম ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম। পাশাপাশি নদী কমিশনসহ বিভিন্ন সংস্থা এ বিষয়ে কাজ করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল আইন প্রয়োগ নয়, কার্যকর তদারকি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে নদী পুনরুদ্ধারে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তারা নতুন প্রজন্মকে নদীর গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কার্যক্রম বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন।

তাদের মতে, নদী শুধু ভৌগোলিক পরিচয় নয়, বরং দেশের প্রাণ। তাই নদী রক্ষায় জনসচেতনতা ও সমন্বিত উদ্যোগই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের পরিবেশ ও অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখার মূল ভিত্তি।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!