সরকারি ছুটি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মহাখালী বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীদের উপস্থিতি ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে দুপুর পর্যন্ত সেখানে এখনো প্রত্যাশিত মাত্রার চাপ তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আজ সোমবার (২৫ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মহাখালী বাসস্ট্যান্ড ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা টিকিট সংগ্রহ ও বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। কাউন্টারগুলোতেও ধীরে ধীরে ভিড় বাড়ছে।
তবে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, গার্মেন্টস খাতের ছুটি শুরু হলে যাত্রীচাপ আরও অনেক বেড়ে যাবে। তখন বাসস্ট্যান্ডে ব্যাপক ভিড়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভাড়া নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ করেন, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি অর্থ আদায় করা হচ্ছে। তবে অন্যদের দাবি, ভাড়া স্বাভাবিক রয়েছে।
কাউন্টার কর্তৃপক্ষ বলছে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার সুযোগ নেই। তাদের ভাষ্য, ঈদকে সামনে রেখে যাত্রীচাপ বাড়লেও এখনো তা প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
ময়মনসিংহগামী যাত্রী জাহানারা ইসলাম বলেন, “এখনো যাত্রীর চাপ খুব বেশি নয়। সহজেই টিকিট পেয়েছি। গার্মেন্টস ছুটি শুরু না হওয়ায় ভিড় কম। আশা করছি নির্বিঘ্নে বাড়ি পৌঁছাতে পারব।”
টাঙ্গাইলগামী যাত্রী আব্দুল কালাম বলেন, “যাত্রীর চাপ তুলনামূলক কম থাকলেও অনেক বাস যাত্রী পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে না।”
বাস ছাড়তে দেরি হওয়ার বিষয়ে চালক ও কাউন্টার সংশ্লিষ্টরা জানান, টঙ্গী ও গাজীপুর এলাকায় তীব্র যানজটের কারণে অনেক বাস মহাখালী পর্যন্ত আসতে পারছে না। ফলে সেসব বাস গাজীপুর থেকেই যাত্রী নিয়ে উত্তরবঙ্গ ও ময়মনসিংহের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছে।
একাধিক চালকের ভাষ্য, স্বাভাবিক সময়ে ময়মনসিংহ থেকে মহাখালী পৌঁছাতে যেখানে প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা লাগে, সেখানে যানজটের কারণে গাজীপুর থেকে মহাখালী আসতেই তিন ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। এ কারণে অনেক বাস ঢাকায় প্রবেশ না করেই যাত্রা শুরু করছে।
মহাখালী বাসস্ট্যান্ড শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যনির্বাহী সদস্য মো. মাকসুদুর রহমান (মাসুদ) বলেন, যাত্রী পরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত বাস প্রস্তুত রয়েছে। যাত্রীসংখ্যা অনুযায়ী বাস ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ যাতে না ওঠে, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিকেলের পর থেকে যাত্রীচাপ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে বলেও তিনি জানান।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!