ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে বাড়ি ফিরছিলেন তারা। কিন্তু সেই ফেরাই হয়ে দাঁড়াল জীবনের শেষ যাত্রা। ঢাকা–টাঙ্গাইল যমুনা সেতু মহাসড়কের সরাতৈল এলাকায় রডবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।
সোমবার (২৫ মে) ভোর ৪টার দিকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রডবোঝাই ট্রাকটি উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে উল্টে যায়। এতে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই ১৫ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন আরও ৬ জন।
নিহতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন—নওগাঁর মান্দা উপজেলার রাজেন্দ্রবাড়ি এলাকার সাকিম মিয়ার ছেলে সাগর মিয়া, একই এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলাম, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাতানপুর এলাকার আলতাফ হোসেনের ছেলে ইসমাইল হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের নজরুল, মামুন এবং নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার মালঞ্চী এলাকার সাইদুল ইসলামের ছেলে সারিকুল ইসলাম।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে মরদেহ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফেরা নওগাঁর মান্দা উপজেলার রাব্বানি বলেন, “চট্টগ্রামের অলংকার থেকে সন্ধ্যার দিকে রওনা হই। ট্রাকে কেউ জেগে ছিল, কেউ ঘুমিয়ে ছিল। ভোরে হঠাৎ দুর্ঘটনা ঘটে। আমি ছিটকে পড়ে বেঁচে যাই। আমার চাচা, চাচাতো ভাই ও বন্ধুরা সবাই মারা গেছে। আমি হকারের কাজ করে বাড়ি ফিরছিলাম।”
স্থানীয় বুলবুল সরকার বলেন, “ভোরে শব্দ শুনে আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। এমন দুর্ঘটনা আগে কখনো দেখিনি। একসঙ্গে এত মানুষের মৃত্যু খুবই ভয়াবহ ঘটনা।”
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোপালপুর সার্কেল) ফৌজিয়া হাবিব খান বলেন, “রডবোঝাই ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই ১৫ জন নিহত হন। নিহতরা সবাই উত্তরবঙ্গগামী যাত্রী ছিলেন। মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!