ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় গ্যাস সিলিন্ডারবাহী একটি ট্রাকের পেছনে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় একই পরিবারের চার সদস্যসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরা এক প্রবাসী যুবক, তাঁর মা, ভাই ও বোন। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রাইভেটকারের চালকও।
আজ মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার মালিগ্রাম এলাকায় ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের ভাঙ্গামুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের নুরজাহান বেগম (৫০), তাঁর ছেলে আরিফ ইসলাম (২৫) ও রাকিব ইসলাম (১৮), মেয়ে আয়েশা বেগম (২৮) এবং প্রাইভেটকারের চালক জাহিদ হোসেন (৩২)। জাহিদের বাড়ি যশোরের মনিরামপুর উপজেলার গৌরীপুর গ্রামে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আরিফ ইসলাম মালয়েশিয়ায় কর্মরত ছিলেন। সোমবার রাতে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। তাঁকে নিতে পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় যান। বিমানবন্দর থেকে তাঁকে নিয়ে প্রাইভেটকারে করে যশোরের উদ্দেশে রওনা দেন তাঁরা।
পথে ভাঙ্গার মালিগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে প্রাইভেটকারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারবাহী একটি ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে গাড়িটি দুমড়েমুচড়ে ট্রাকের নিচে ঢুকে যায়।
খবর পেয়ে ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে। আহতদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা চারজনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত দুইজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আরিফ ইসলামের মৃত্যু হয়।
ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা আবু জাফর বলেন, দুর্ঘটনার পর প্রাইভেটকারটি ট্রাকের নিচে আটকে যায়। এ কারণে উদ্ধারকাজে কিছুটা সময় লাগে।
শিবচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেটকার ও ট্রাক জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
স্বজনদের ভাষ্য, বহুদিন পর মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরেছিলেন আরিফ ইসলাম। তাঁকে নিয়ে পরিবারের সদস্যদের বাড়ি ফেরার আনন্দ মুহূর্তেই শোকে পরিণত হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!