জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান মন্ত্রিসভার দায়িত্বে থাকবেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
আজ বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, খলিলুর রহমানের নতুন দায়িত্ব এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনার ভিত্তিতে।
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘যদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পুরোপুরি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হয়, তাহলে তাঁকে সেখানে সময় দিতে হবে। তবে এর অর্থ এই নয় যে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এটি সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত।’
গত মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত ভোটে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন খলিলুর রহমান। গোপন ব্যালটে অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনে তিনি ৯৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাইপ্রাসের বহুপক্ষীয়তাবিষয়ক বিশেষ দূত আন্দ্রেজ কাকাউরিস, যিনি পেয়েছেন ৯১ ভোট।
দীর্ঘ ৪০ বছর পর বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে নির্বাচিত হলেন। এর আগে বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী এই পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
খলিলুর রহমান এক বছরের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এ কারণে তিনি ছুটিতে যাবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘সেটা উনিই সিদ্ধান্ত নেবেন। সময় হলে আপনারা অবশ্যই জানতে পারবেন।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাতে ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হতে পারে—এমন আলোচনা সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে তাঁর কোনো তথ্য জানা নেই। তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কীভাবে চলবে, সেটি প্রধানমন্ত্রীই সিদ্ধান্ত নেবেন। তাঁর নেতৃত্বেই আমরা এই অর্জন পেয়েছি।’
একপর্যায়ে সাংবাদিকেরা জানতে চান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তাঁর ওপর আসতে পারে কি না। জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমি কিছুই জানি না। আমি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে খুশি আছি।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন ভূমিকা নিয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের দিকে এখন নজর সংশ্লিষ্টদের।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!