জাতীয়

ইউএনজিএ সভাপতি নির্বাচনে জয় ১৭ কোটি মানুষের অর্জন: শামা ওবায়েদ

আপডেট: জুন ০৪, ২০২৬ : ০৬:৩০ এএম
ইউএনজিএ সভাপতি নির্বাচনে জয় ১৭ কোটি মানুষের অর্জন: শামা ওবায়েদ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নির্বাচন দেশের ১৭ কোটি মানুষের বিজয়। তিনি এ অর্জনকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

আজ বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘এটি শুধু একজন ব্যক্তির সাফল্য নয়, বরং বাংলাদেশের মানুষের অর্জন। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও কূটনৈতিক অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে বাংলাদেশের বিজয় সেই আস্থারই প্রতিফলন।

শামা ওবায়েদ বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের ব্যক্তিগত যোগ্যতা, কূটনৈতিক দক্ষতা এবং সদস্যরাষ্ট্রগুলোর কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা এ সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টাও এ অর্জনে সহায়ক হয়েছে।

তিনি এ নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশের কূটনীতিক ও মিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবদানের কথা উল্লেখ করেন।

মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত গোপন ব্যালটের ভোটে ড. খলিলুর রহমান ৯৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাইপ্রাসের বহুপক্ষীয় বিষয়ক বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস. কাকুরিস, যিনি পান ৯১ ভোট। মোট ১৯০টি ভোটের মধ্যে আট ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন বাংলাদেশের প্রার্থী।

খলিলুর রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে বহাল থাকবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনার মাধ্যমেই বিষয়টি নির্ধারিত হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালনের জন্য খলিলুর রহমানকে উল্লেখযোগ্য সময় নিউইয়র্কে অবস্থান করতে হবে। তবে এতে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

এক বছর নিউইয়র্কে অবস্থান এবং ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, এ বিষয়ে তিনি কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানেন না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, তা প্রধানমন্ত্রীই নির্ধারণ করবেন।

নিজের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব আসার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেই আমি সন্তুষ্ট।’

চার দশক পর আবারও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের একজন প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ায় কূটনৈতিক অঙ্গনে এ অর্জনকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!