জাতীয়

ঈদকে ঘিরে ১৩ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ২৮১ জনের

আপডেট: জুন ০৪, ২০২৬ : ০৭:৫৮ এএম
ঈদকে ঘিরে ১৩ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ২৮১ জনের

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ১৩ দিনে সারা দেশে ২৯২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮১ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৮৩৭ জন। অর্থাৎ এই সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২২ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে সড়কে।

আজ বৃহস্পতিবার ঈদযাত্রা-পরবর্তী সড়ক দুর্ঘটনার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বেসরকারি সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। প্রতিবেদনে ২১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত সময়ের দুর্ঘটনার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট প্রাণহানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। ১৪১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১২৪ জন, যা মোট নিহতের ৪৪ শতাংশেরও বেশি। নিহতদের মধ্যে ৩৪ জন নারী, ৪৮ জন শিশু এবং ৩৭ জন পথচারী রয়েছেন।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। সেখানে ৯৫টি দুর্ঘটনায় ১০১ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম প্রাণহানি হয়েছে সিলেট বিভাগে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, বেপরোয়া গতি, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, চালকদের অদক্ষতা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং কিশোর-তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ মোটরসাইকেল চালানো দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।

সংস্থাটি বলছে, আগের বছরের তুলনায় প্রাণহানি কিছুটা কমলেও দেশের সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনায় কাঙ্ক্ষিত উন্নতি হয়নি। নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিবহন পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি রেল ও নৌপথের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, একই সময়ে দেশে ১৩টি নৌপথ দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি ২৪টি কোরবানির পশুর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে ২২টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত ও ৯ জন আহত হয়েছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, জাতীয় ও আঞ্চলিক সংবাদপত্র, অনলাইন সংবাদমাধ্যম, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নে বেশ কয়েকটি সুপারিশও করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলকে (এনআরএসসি) আরও কার্যকর করা, সড়ক পরিবহন খাতের বিভিন্ন সংস্থার সংস্কার, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন অপসারণ, গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, দক্ষ চালক তৈরি এবং নিরাপদ সড়ক ও রেলক্রসিং নিশ্চিত করা।

এ ছাড়া জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রশাসনিক সক্ষমতা উন্নয়ন এবং সড়ক, রেল ও নৌপরিবহন খাতের সমন্বয়ে একটি অভিন্ন যোগাযোগ মন্ত্রণালয় গঠনেরও সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!