জাতীয়

দেশে কোরবানি হয়েছে প্রায় ৯৪ লাখ পশু, উদ্বৃত্ত ২৯ লাখের বেশি

আপডেট: জুন ০৪, ২০২৬ : ০৮:০২ এএম
দেশে কোরবানি হয়েছে প্রায় ৯৪ লাখ পশু, উদ্বৃত্ত ২৯ লাখের বেশি

পবিত্র ঈদুল আজহায় সারা দেশে ৯৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪১৮টি গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। এর মধ্যে গরু ও মহিষ ছিল ৪৮ লাখ ৬৪ হাজার ১৫৮টি এবং ছাগল ও ভেড়া ৪৫ লাখ ২ হাজার ২৩৩টি। অন্যান্য পশু কোরবানি হয়েছে ১ হাজার ২৭টি।

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আট বিভাগের প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব তুলে ধরা হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বছর কোরবানির জন্য দেশে মোট ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি পশুর চাহিদা ছিল। এর বিপরীতে কোরবানিযোগ্য পশুর প্রাপ্যতা ছিল ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। কোরবানি শেষে দেশে ২৯ লাখ ৬৬ হাজার ৪২২টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি পশু কোরবানি হয়েছে ঢাকা বিভাগে। সেখানে কোরবানি হয়েছে ২৩ লাখ ৫১ হাজার ৬৬৬টি পশু। এর মধ্যে গরু ও মহিষ ১৩ লাখ ৬৯ হাজার ৫টি এবং ছাগল ও ভেড়া ৯ লাখ ৮২ হাজার ১০৭টি।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী বিভাগ। এ বিভাগে কোরবানি হয়েছে ২৩ লাখ ৪২ হাজার ৮৬৯টি পশু। রাজশাহী বিভাগে ছাগল ও ভেড়া কোরবানির সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি, যা ১৫ লাখ ৪৬ হাজার ৭০৬টি।

চট্টগ্রাম বিভাগে কোরবানি হয়েছে ১৭ লাখ ৩৪ হাজার ২৫টি পশু। এর মধ্যে গরু ও মহিষের সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ১৮ হাজার ৬৭২টি। এ ছাড়া রংপুর বিভাগে ১০ লাখ ৫০ হাজার ৫৫৪টি, খুলনা বিভাগে ৮ লাখ ৪৬ হাজার ৫টি, বরিশাল বিভাগে ৪ লাখ ১৬০টি, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৮১৮টি এবং সিলেট বিভাগে ২ লাখ ৭৪ হাজার ৩২১টি পশু কোরবানি হয়েছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত বছর দেশে কোরবানি হয়েছিল ৯১ লাখ ৩৬ হাজার পশু। সে হিসাবে এবার কোরবানির সংখ্যা বেড়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৪১৮টি।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দেশীয় খামারিদের উৎপাদিত পশুর মাধ্যমেই এ বছরও কোরবানির শতভাগ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। সরকারের নীতিগত সহায়তা, খামারিদের শ্রম এবং উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের ফলে প্রাণিসম্পদ খাত এখন স্বয়ংসম্পূর্ণতার অবস্থানে পৌঁছেছে।

তিনি বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী করতে এবং প্রাণিসম্পদ খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও খামারিবান্ধব নীতি বাস্তবায়নে কাজ করছে।

প্রতিমন্ত্রী সফলভাবে কোরবানি ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করায় খামারি, ব্যবসায়ী, ভোক্তা, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানান।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!