জাতীয়

ফল রপ্তানিতে রেকর্ড আয়, ১১ মাসে ১২ কোটি ৩০ লাখ ডলার

আপডেট: জুন ০৭, ২০২৬ : ০৫:৩৩ এএম
ফল রপ্তানিতে রেকর্ড আয়, ১১ মাসে ১২ কোটি ৩০ লাখ ডলার

দেশীয় ফলের বৈদেশিক চাহিদা বাড়তে থাকায় চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে ফল রপ্তানি থেকে বাংলাদেশের আয় দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৩০ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলারে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ খাত থেকে আয় হয়েছিল ৬ কোটি ৭৫ লাখ ১০ হাজার ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে আয় বেড়েছে ৮২ শতাংশের বেশি।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে ফল রপ্তানি থেকে এটিই দেশের সর্বোচ্চ আয়। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি ফলের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তার মানদণ্ড পূরণে অগ্রগতি এবং রপ্তানিমুখী ফল চাষ সম্প্রসারণের কারণে এ খাতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি এসেছে।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত সময়ে ‘বাদাম, তাজা বা শুকনো’ শ্রেণির পণ্য থেকে সবচেয়ে বেশি আয় হয়েছে। এ খাত থেকে আয় দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ২৮ লাখ ১৮ হাজার ডলারে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৬ কোটি ৬০ লাখ ৫০ হাজার ডলার।

এ ছাড়া হিমায়িত ফল ও বাদাম রপ্তানি থেকেও আয় বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে এ খাত থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৪০ হাজার ডলার। রপ্তানিকারকদের মতে, গ্রীষ্মকালীন ফলের মধ্যে আম এখনো বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য। সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, কুয়েত, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে দেশীয় আমের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

এর পাশাপাশি পেয়ারার রপ্তানিও বাড়ছে। প্রতিযোগিতামূলক মূল্য ও উন্নত মানের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁঠাল, আনারস, লিচু ও কলার চাহিদাও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বর্তমানে বাংলাদেশের ফল মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। ইপিবির পরিচালক কুমকুম সুলতানা বলেন, দেশের ফল চাষে বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। সেখানে ড্রাগন ফল, কাজুবাদাম ও কফির মতো উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্যের চাষ দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে, যা রপ্তানি সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করছে।

ইপিবির সহসভাপতি মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, ফল রপ্তানি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। কারণ এ খাত মূলত দেশীয় কাঁচামালনির্ভর এবং অন্যান্য অনেক রপ্তানি খাতের মতো আমদানিনির্ভর উপকরণের প্রয়োজন তুলনামূলকভাবে কম।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, উৎপাদন, সংরক্ষণ ও রপ্তানি ব্যবস্থাপনায় আরও আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করা গেলে আগামী কয়েক বছরে ফল রপ্তানি থেকে আয় আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!