জাতীয়

জ্বালানি সহযোগিতা আরও বাড়াতে চায় বাংলাদেশ-রাশিয়া

আপডেট: জুন ১১, ২০২৬ : ০৪:৫৯ এএম
জ্বালানি সহযোগিতা আরও বাড়াতে চায় বাংলাদেশ-রাশিয়া

বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও রাশিয়া। বিশেষ করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া, ভবিষ্যৎ জ্বালানি চাহিদা মোকাবিলায় নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা এবং দক্ষ জনবল তৈরির বিষয়ে দুই দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, মস্কো সফরকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে দুই দেশের পারমাণবিক জ্বালানি সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশ-রাশিয়া সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি জানান, চলতি বছরের মে মাসে রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে সফলভাবে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হয়েছে। এখন জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সংযোগ এবং বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর জন্য রাশিয়ার ধারাবাহিক কারিগরি সহযোগিতা প্রয়োজন।

জবাবে রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভ বলেন, রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযোগের প্রক্রিয়া শিগগিরই সম্পন্ন হবে। একই সঙ্গে প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিট আগামী গ্রীষ্মের মধ্যে চালুর সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বৈঠকে ভবিষ্যৎ জ্বালানি চাহিদা মোকাবিলায় ক্ষুদ্র মডুলার রিয়্যাক্টর (এসএমআর) প্রযুক্তির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসএমআর প্রযুক্তির কারিগরি ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা সম্পর্কে জানতে চান।

রোসাটম প্রধান জানান, বাংলাদেশে ভাসমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাবনাও বিবেচনা করা যেতে পারে। বৈঠকে পারমাণবিক খাতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়্যাক্টর প্রকৌশল, পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থাপনায় নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞ তৈরিতে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশি পেশাজীবীরা শুধু রূপপুর প্রকল্প পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণেই নয়, ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্যান্য পারমাণবিক প্রকল্পেও কাজ করার সুযোগ পাবেন। রোসাটমের মহাপরিচালক এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!