জাতীয়

সিন্ডিকেট ভেঙে প্রবাসীদের সুরক্ষায় সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব

আপডেট: জুন ১১, ২০২৬ : ০৫:০৩ এএম
সিন্ডিকেট ভেঙে প্রবাসীদের সুরক্ষায় সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব

প্রবাসী বাংলাদেশিদের ‘টাকার মেশিন’ হিসেবে না দেখে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘বীরের সম্মান’ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান, সিন্ডিকেট দমন এবং দূতাবাসসেবার মানোন্নয়নে সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

বুধবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ১৪৭ ধারায় উত্থাপিত এক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান অসামান্য। তাঁদের শুধু ‘শ্রমিক’ হিসেবে নয়, আরও সম্মানজনক পরিচয়ে মূল্যায়ন করা উচিত। রাষ্ট্রের উচিত তাঁদের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা।

তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির জন্য আর্থিক রেমিট্যান্স যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ‘ইন্টেলেকচুয়াল রেমিট্যান্স’ বা মেধার অবদানও সমান জরুরি। উন্নত দেশগুলো বিভিন্ন প্রণোদনার মাধ্যমে নিজেদের মেধাবীদের দেশে ফিরিয়ে আনছে। বাংলাদেশকেও মেধাবী তরুণদের জন্য উপযুক্ত কর্মপরিবেশ ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রবাসীদের দেশে ফিরে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, অনেক ক্ষেত্রে আত্মীয়স্বজনই তাঁদের সম্পত্তি দখল করে নেয় বা মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করে। আইনি সহায়তা নিতে গিয়েও তাঁদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

তিনি আইন মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জমি হস্তান্তরসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। প্রবাসীদের শুধু অর্থ উপার্জনের উৎস হিসেবে দেখলে চলবে না; তাঁদের দেশের সম্পদ হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে।

ই-পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রসংক্রান্ত জটিলতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নামের বানান বা বয়সের সামান্য অমিলের কারণে অনেক প্রবাসী বিদেশে বৈধ অবস্থান হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন। বিদেশে অবস্থান করেই যাতে এসব সমস্যার সমাধান করা যায়, সে জন্য সহজ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত নিম্ন আয়ের প্রবাসীদের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কর্মসংস্থানের নামে বিভিন্ন সিন্ডিকেট তাঁদের শোষণ করছে। এসব চক্রকে চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিদেশে কোনো বাংলাদেশি কর্মীর মৃত্যু হলে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা থাকা উচিত।

দূতাবাসের সেবার মান উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, যেসব দেশে বাংলাদেশি প্রবাসীদের সমস্যা বেশি, সেখানে সংসদীয় টাস্কফোর্স পাঠিয়ে সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা যেতে পারে। টাস্কফোর্সের সদস্যরা দূতাবাস কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে প্রবাসীদের অভিযোগ ও সমস্যার কথা সরাসরি শুনতে পারবেন।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। তাঁদের যথাযথ মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সরকার এ বিষয়ে উদ্যোগ নিলে বিরোধী দল সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!