বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বোরি) ঘিরে সম্প্রতি বিভিন্ন অভিযোগ সামনে আসায় প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও গবেষণা পরিবেশ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া, গবেষণা প্রকল্প পরিচালনা, সরকারি সম্পদের ব্যবহার এবং কর্মস্থলের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তা।
তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করে আসছে। এর ফলে গবেষণা কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক সংস্কার উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। যদিও অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাইও সম্ভব হয়নি।
প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে গবেষণায় প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ, তথ্য সংগ্রহে জবাবদিহিতা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গবেষণার মানোন্নয়ন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও কঠোর নীতিমালা অনুসরণের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে কিছু কর্মকর্তা এসব পরিবর্তনের বিরোধিতা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে কর্মপরিবেশ নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করা হয়েছে। কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, অপপ্রচার, ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রচারণা প্রতিষ্ঠানের পেশাদার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। নারী কর্মকর্তাদের প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের সামুদ্রিক গবেষণার ভবিষ্যৎ এবং নীল অর্থনীতি বিকাশে বোরির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ সংকট দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।
তারা মনে করেন, নিয়োগ, গবেষণা প্রকল্প, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং সাম্প্রতিক অভিযোগগুলো নিয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করা হলে প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং গবেষণার পরিবেশ উন্নয়নে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে।
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধান ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনের মাধ্যমে বোরি আবারও গবেষণাকেন্দ্রিক কার্যক্রমে পূর্ণ মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে।
No comments yet. Be the first to comment!