জাতীয়

বোরিতে প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব ও দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা, তদন্তের দাবি জোরালো

আপডেট: জুন ১৩, ২০২৬ : ১০:২৫ এএম ৪৬
বোরিতে প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব ও দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা, তদন্তের দাবি জোরালো
কক্সবাজারে বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বোরি) ভবন। প্রতিষ্ঠানটিতে সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন মতপার্থক্য ও অভিযোগ সামনে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট দেশের সমুদ্র বিজ্ঞান গবেষণার একটি প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের ফ্যাসিস্ট সমর্থিত কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাধ্যমে গবেষণা কার্যক্রমে বাঁধাসৃষ্টি, প্রশাসনিক কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিশৃংখলা তৈরির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানকে স্থবির করার পুনরায় অপচেষ্টা করা হচ্ছে। ২০২২ সালে ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হিসাবে পরিচিত সাবেক মৎস্য সচিব (অপসারিত) সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দার মহাপরিচালক থাকাকালীন সময়ে কয়েক কোটি টাকা দূর্নীতির মাধ্যমে অবৈধভাবে কিছু কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেয়া হয় যাদের অধিকাংশই ফ্যাসিস্ট ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী। তৎকালীন সময়ে বেলাল হায়দর তার নিয়োগ দেয়া এসকল কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব একটি গ্রুপ তৈরি করে এবং তাদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের আউটসোর্সিংসহ সকল নিয়োগ এবং সরকারি কেনাকাটা নিয়ন্ত্রণ করতেন। তৎকালীন সময়ে একাধিক জাতীয় ও স্থানীয় পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত এ সংক্রান্ত একাধিক প্রতিবেদন রয়েছে। পরবর্তীকালে, ফ্যাসিস্ট আমলে শেখ হাসিনার বিশেষ বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্ত অধ্যাপক তৌহিদা রশীদ (তৎকালীন ঢাবির ভিসি মাকসুদ কামালের নেতৃত্বাধীন সিনেট সদস্য) মহাপরিচালক থাকাকালীন এই গ্রুপটি আরো সক্রিয় হয়ে সকল ক্রয় ও নিয়োগ কার্যক্রমে নানা অনিয়ম করে। এ বিষয়েও একাধিক পত্র পত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশ পায়। কিন্তু, আওয়ামী মদদপুষ্ঠ প্রশাসন কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। যার দরুন, এই গ্রুপটি আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে। ডিজি তৌহিদা রশীদের আমলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভয় দেখিয়ে এই গ্রুপটি সকল নিয়োগ ও কেনাকাটা নিয়ন্ত্রণ করতো। 

জনাব মোঃ হাসিবুল ইসলাম, প্রিন্সিপ্যাল সাইন্টিফিক অফিসার প্রতিষ্ঠানের নিলাম কার্যক্রমে দুর্নীতি, নিয়োগ কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ এবং নিজেকে ডিজি হিসেবে নিয়োগের জন্য মন্ত্রণালয়ে তদবির চালানোর জন্য অর্থ সংগ্রহ করতেন। বিভিন্ন ঠিকাদারের এ বিষয়ে একাধিক লিখিত অভিযোগ থাকলেও তৎকালীন প্রশাসন কোন পদক্ষেপ নেয় নি। সরকারি টাকায় অকার্যকর রেইন ওয়াটার প্রকল্প গ্রহণ করে বড় অংকের টাকা তছরূপ, ক্যাম্পাসে কোন কার্যকর গবেষণা কাজ না করে গরুর খামার এবং চাষাবাদ ইত্যাদি কার্যক্রম চালান। তিনি এখনো নামসর্বস্ব গবেষণার নামে টাকা তছরুপ, সরকারি চাকুরি বিধিমালা অমান্য করে একাধিক ব্যবসা পরিচালনা এবং কাজের নামে একাধিক প্রতারণা ও অর্থ আত্মস্বাতের কৌশল গ্রহণ করছেন। পূর্বেও এ বিষয়ে একাধিক অভিযোগ থাকলেও আওয়ামী মদদপুষ্ঠ প্রশাসন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এই গ্রুপটির অন্যায়, অনৈতিক ও অবৈধ বিভিন্ন কার্যক্রমের ফলে প্রতিষ্ঠানটি আওয়ামী আমলে স্থবির হয়ে পড়ে। 

অন্তবর্তীকালীন সরকার স্থবির এই প্রতিষ্ঠানটিকে ঢেলে সাজানোর জন্য ওশানোগ্রাফি ও হাইড্রোগ্রাফি বিষয়ে অভিজ্ঞ মহাপরিচালক নিয়োগ দেন। তাঁর যোগদানের পর সকল দুর্নীতি, অনিয়ম ও অবৈধ কার্যক্রম বন্ধের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এর ফলে শুরু থেকেই এই গ্রুপটি তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচার শুরু করে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করতে থাকে। এই গ্রুপটি প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত গবেষণা কাজে বাঁধা সৃষ্টি করে, নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হেনস্তা করে এমনকি এ কাজে স্থানীয় ব্যক্তিদেরকেও মদদ প্রদান করে বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।     

বর্তমানে এই গ্রুপটির পুরো কার্যক্রমের নেতৃত্ব প্রদান করেন প্রিন্সিপ্যাল সাইন্টিফিক অফিসার মোঃ হাসিবুল ইসলাম। যার সাথে রয়েছে অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ট্রান্সপোর্ট সুপারভাইজার শাহরাজ মোঃ মিনারুল ইসলাম, মেডিক্যাল টেকনিশিয়ান সাগর দত্ত, এবং রিসার্চ এসিস্ট্যান্ট অনামিকা শর্মা প্রমুখ। এই গ্রুপটি সর্বদা গবেষণা কাজে বাঁধা সৃষ্টি এবং প্রশাসনিক কাজে বিশৃংখলা তৈরি করতে লিপ্ত।   

 

এই গ্রুপের অপকর্মের বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:

জনাব হাসিব প্রিন্সিপ্যাল সাইন্টিফিক অফিসার পদে নিয়োগ পান তাঁরই বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগের সিনিয়র বোরির সাবেক মহাপরিচালক বেলাল হায়দার দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে। আর্থিক অনিয়মের মাধ্যমে কোন ডক্টরেট ডিগ্রি না থাকা এবং গবেষণা কাজে পূর্বের কোন বাস্তব চাকুরীর অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও ৪র্থ গ্রেডের মতো একটি সিনিয়র পদে শুধুমাত্র মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগ প্রদান করা হয়। তাছাড়া, পরশ পাথর কলেজ নামে একটি বেসরকারী কলেজে সাধারণ চাকুরীর অভিজ্ঞতা নিয়ে ৪র্থ গ্রেডের বিজ্ঞানী পদে কিভাবে নিয়োগ পান তা নিয়ে বিজ্ঞানী মহলে প্রশ্নবিদ্ধ। সরাসরি ৪র্থ গ্রেডে নিয়োগ পেয়েই জনাব হাসিব মহাপরিচালক বেলাল হায়দারের সমর্থনে বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। গবেষণা কাজে খুবই অসমর্থ ও অদক্ষ হওয়ায় প্রশাসনিক কাজে অন্তর্ভূক্ত হওয়াই ছিলো তাঁর মূল উদ্দেশ্য। গবেষণা কাজের ক্ষেত্রে ৩০ থেকে ৩৫ লক্ষ টাকার গবেষণা প্রস্তাব জমা দিয়ে কোন ধরণের ডাটা সংগ্রহ না করেই সরকারী গবেষণার টাকা আত্মসাৎ করে যেনো তেনোভাবে দুর্বল প্রতিবেদন জমা দেন, যা যেকোন গবেষক দেখলে নিজেও লজ্জা পাবেন। গবেষণা কাজে এসব দুর্নীতির বিষয়ে অনেক রিপোর্ট তৎকালীন সময়ে বিভিন্ন পত্রিকায় এসেছে। মহাপরিচালক বেলাল হায়দর চলে যাওয়ার পর থেকে মোঃ হাসিবুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক হওয়ার জন্য বিভিন্ন স্থানে তদবির করতে থাকেন। কিন্তু এরপর অধ্যাপক তৌহিদা রশীদ মহাপরিচালক হিসাবে যোগদান করলে ফ্যাসিস্টের দোসর হিসাবে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কাজ, প্রকল্পের কাজ, নমুনা সংগ্রহ না করে রিপোর্ট প্রদান, গবেষণার টাকা নিয়ে দুর্নীতি করতেন। সহকর্মীদের নামে ভুয়া ও ভিত্তিহীন অভিযোগ দাখিল করতেন। সিনিয়র কর্মকর্তা হওয়ায় জুনিয়র কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিভিন্নভাবে হেনস্তা করতেন। আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত কর্মচারীদের চাকুরি খাওয়ার হুমকি দিতেন। অধ্যাপক তৌহিদা রাশীদ তাঁর দুর্নীতির প্রমান পেয়েও কোন ব্যবস্থা নেয়নি। উপরন্তু ডিজি তৌহিদা রশীদ প্রতিষ্ঠানের মালামাল নিলামের দায়িত্ব মোঃ হাসিবুল ইসলামকে প্রদান করেন। সেখানে তিনি দুর্নীতির মাধ্যমে পছন্দের ব্যক্তিকে কাজ দেয়ার চেষ্টা করলে, নিলামে সর্বোচ্চ বিডকারী হোছাইন এন্টারপ্রাইজের মালিক মোহাম্মদ ফারুক এ বিষয়ে মহাপরিচালক অধ্যাপক তৌহিদা রশীদের কাছে একাধিক অভিযোগ জানান। এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা হাসিবুল ইসলাম জনাব মোহাম্মদ ফারুককে তাঁর কক্ষে ডেকে জোর পূর্বক টর্চার করে অভিযোগ তুলে নেওয়ার চাপ দিয়ে অভিযোগ তুলে নেওয়ার কাগজে স্বাক্ষর করান। জোর করে অভিযোগ তুলে নেওয়ার কাগজে স্বাক্ষর করার পর সেখান থেকে বের হয়ে হোছাইন এন্টারপ্রাইজের মালিক মোহাম্মদ ফারুক তাঁকে জোর পূর্বক অভিযোগ তোলার কাগজে স্বাক্ষর করানোয় মোঃ হাসিবুল ইসলামের নামে পুনরায় অভিযোগ দেন ও অডিও রেকর্ড তাঁর কাছে আছে মর্মে মহাপরিচালক তৌহিদা রশীদের কাছে জানান। তারপরও মহাপরিচালক তৌহিদা রশীদে এই টর্চারকারী কর্মকর্তার বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেন নাই। এই দূর্নীতির বিষয়ে সকল প্রমানপত্র রিপোর্টারের কাছে রয়েছে। বিভিন্ন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান, প্লাম্বিং কোম্পানি, রঙ মিস্ত্রি ও দোকানদারদের নিকট হতে তারা কমিশন গ্রহণ করেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া হাসিব গং নির্মাণ ও মেরামত কাজে অসৎ উদ্দেশ্যে বাঁধা সৃষ্টি করেন মর্মে প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে ভাগবাটোয়ার পেলে নিম্নমানের কাজেকেও অনুমোদন প্রদান করেন। এসএম ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জনাব হাসিব অন্যান্যদের সহযোগীতায় ডিজি তৌহিদার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ভাগবাটোয়ারার মাধ্যমে নিম্নমানের সামান্য কাজ ও ভুয়া বিল দেখিয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকা লোপাট করেন। এই লোপাটের কোন তদন্তের উদ্যোগ নেয়া হলে প্রশাসনসহ সবাইকে এই গ্রুপটি হেনস্তার ভয় ও হুমকি প্রদান করেন।    

বিগত ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর অধ্যাপক তৌহিদা রশীদের নিয়োগ বাতিলের আদেশ হলে এবং ওশানোগ্রাফি ও হাইড্রোগ্রাফি বিষয়ে অভিজ্ঞ কমডোর মোঃ মিনারুল হককে বোরির মহাপরিচালক হিসাবে দায়িত্ব প্রদান করলে গবেষণা প্রতিষ্ঠানে সামরিক কর্মকর্তা চাই না মর্মে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে মোঃ হাসিবুল ইসলাম আন্দোলন শুরু করেন, এবং আড়ালে অধ্যাপক তৌহিদা রশীদকে মহাপরিচালক হিসাবে রেখে দেওয়ার পায়তারা করতে থাকেন। 

বর্তমান মহাপরিচালক দায়িত্ব পাওয়ায় পর গবেষণা ক্ষেত্রে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও স্বচ্ছভাবে গবেষণার ফলাফল পেতে গবেষকদের নমুনা সংগ্রহের কাজে জিপিএস ট্র্যাকিং ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেন, সকল বিজ্ঞানীরা তা গ্রহণ করেন ও গবেষণার নমুনা সংগ্রহের সঠিক তথ্য সেখানে পাওয়া যায় বিধায় তা প্রশংসিতও হয়। কিন্তু মোঃ হাসিবুল ইসলাম মহাপরিচালকে জানিয়ে দেন তিনি নমুনা সংগ্রহে জিপিএস ট্র্যাকিং ব্যবহার করবেন না এবং তিনি পুনরায় নমুনা সংগ্রহ না করে গবেষণার টাকা তছরুপ করার চেষ্টা করতে থাকেন। এসব কারণে এই দুর্নীতিবাজ ও অদক্ষ কর্মকর্তা মোঃ হাসিবুল ইসলাম বর্তমান মহাপরিচালকের নামে বিভিন্ন মিথ্যা তথ্যে ভরা কুৎসা রটাতে থাকেন। শুধুমাত্র হেনস্তা করার জন্য জনৈক অনামিকা শর্মার মাধ্যমে একটি মনগড়া ভুয়া অভিযোগ মন্ত্রণালয় ও নৌবাহিনীর সদর দপ্তরে দাখিল করেন। এমনকি স্থানীয় লোক ও ভাইদের দিয়ে মহাপরিচালকসহ নারী বিজ্ঞানীকে ফোনে হুমকী ও হেনস্তা করেন বিধায় ভীত হয়ে জনাব বিপাশা সুর, সাইন্টিফিক অফিসার এ প্রতিষ্ঠান থেকে চাকুরী ছেড়ে চলে যায়। এ রকম হেনস্তার প্রমানক প্রতিবেদকের কাছে এসেছে। এভাবে এই গ্রুপটি বিজ্ঞানীদের হেনস্তা করছে এবং ভয় ভীতি দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানিক ও গবেষণার পরিবেশ নষ্ট করছে।            

হাসিবুল ইসলাম গং এর আরেক সদস্য ট্রান্সপোর্ট সুপারভাইজার শাহরাজ মোঃ মিনারুল ইসলাম, যিনি বোরিতে গাড়ির তৈল চুরির জন্য বিখ্যাত। এর জন্য বিগত মহাপরিচালকগণ তাঁকে বোরির ট্রান্সপোর্ট পুলের গাড়ির তৈল কেনার দায়িত্ব থেকে কয়েকবার অব্যাহতি দিয়েছেন। তাছাড়া, ড্রাইভারদের নামে অতিরিক্ত কর্মঘন্টা দেখিয়ে অর্থ লোপাট করতেন। এ বিষয়ে অনেকবার সতর্ক করা হলেও তিনি অপরাধের কাজ চালিয়ে যান। কিন্তু এরপরও তিনি থামেন নাই। বর্তমান মহাপরিচালক তাঁর দুর্নীতির বিষয় বুঝতে পেরে পাম্প থেকে গাড়ির তৈল ক্রয়ে কড়াকড়ি আরোপ করেন এবং তৈল ক্রয়ের সময় কোন না কোন কর্মকর্তা উপস্থিত থাকতে হবে মর্মে অফিস আদেশ দেন। তাঁরপর থেকেই ট্রান্সপোর্ট সুপারভাইজার মহাপরিচালকের বিরুদ্ধেও উঠেপড়ে লাগেন। এই কর্মকর্তার নামে আগেও লামা থানায় মামলা আসামী ছিলেন (মামলা নং ১৪, জিআর নং ৫০/১০, তারিখ ২৬/০৪/২০১০ইং)। অপরাধী এই কর্মচারী প্রায়ই প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তাদের নামে অনলাইন ভুইফোঁড় পত্রিকায় নিউজ করিয়ে বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তাদের ভীত সন্ত্রস্ত করে রাখেন, এসব বিষয়ে তাঁর প্রধান সহযোগী অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া আরেক কর্মচারী মেডিক্যাল টেকনিশিয়ান সাগর দত্ত। বিগত মহাপরিচালক অধ্যাপক তৌহিদা রশীদের ছত্রছায়ায় এই কর্মচারী নিয়োগ বাণিজ্যেও জড়িত ছিলো। অধ্যাপক তৌহিদা রশীদের সময়ে বিজ্ঞানী নিয়োগের সময় এই কর্মচারী লোক ও টাকা ম্যানেজের কাজ করতেন বিধায় পরবর্তীতে নিয়োগের দুর্নীতির বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত কালে নিয়োগের সাথে তাঁর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। মন্ত্রণালয়ের তদন্তে উক্ত নিয়োগ কার্যক্রম পরে বাতিল করা হয়। এই কর্মচারী প্রতিষ্ঠানের নারী কর্মকর্তাদের নামে কুৎসা রটনা ও বাজে কথা ছড়িয়ে বেড়ান ও নারী কর্মকর্তা ও অন্যান্য নারীদের বডি শেমিং করেন। এ বিষয়ে বোরির মেডিক্যাল সেন্টারের তৎকালীন মেডিক্যাল অফিসার ফাতেমা রহমান ডিজি তৌহিদা রশীদের কাছে লিখিত অভিযোগ করলেও কোন কাজ হয়নি। এই অসাধু কর্মচারীদ্বয় স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে ভুইফোঁড় অনলাইন পত্রিকায় ইচ্ছামত মিথ্যা নিউজ করে বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তাদের হেনস্তার ভয় ভীতি দেখানোর চেষ্টা করেন মর্মে বোরির কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এই মেডিক্যাল টেকনিশিয়ান বোরিতে কর্মরত থেকেও প্রাইভেট হাসপাতালে অনিয়ম ও বিধি বহির্ভূতভাবে চাকরি করেন। কক্সবাজার সদরের ইউনিয়ন হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে এই তথ্যের সঠিকতা পাওয়া গেছে। ইতিপূর্বে এই মেডিক্যাল টেকনিশয়ান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করে অনেক নিউজ প্রচার করেন এবং অফিস থেকে তাঁকে বহুবার সতর্ক করা হয় এবং শাস্তি হিসাবে তিরস্কার শাস্তি প্রদান করা হলেও তিনি নিবৃত হননি। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, এই কর্মচারী সাগর দত্তের নামে পেনাল কোড অনুযায়ী গ্রেপ্তারী পরোয়ানা রয়েছে। সরকারী চাকুরী অবস্থায় ফৌজদারী মামলার (সিআর মামলা নং ৫৪৬/২০২৩ইং আনোয়ারা) আসামী হলেও তারপরও এই কর্মচারীকে চাকুরী থেকে বরখাস্ত করা হয়নি, বিধায় এই ব্যাক্তি এখনো প্রতিষ্ঠানের নামে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এসবের প্রমানক প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে। এভাবে নানা অনিয়মের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সময়ের নিয়োগ পাওয়া ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের এই গ্রুপটি প্রতিষ্ঠানে বিশৃংখলা তৈরির অপচেষ্ঠা করছে।

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!