দেশে নিজস্ব জ্বালানি সম্পদের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও গত দেড় দশকে একটি আমদানিনির্ভর জ্বালানি নীতি অনুসরণ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তাঁর ভাষ্য, ওই নীতির কারণেই বর্তমানে দেশ জ্বালানি খাতে নানা সংকটের মুখোমুখি।
শনিবার রাজধানীর গুলশানে দৈনিক ইনকিলাব-এর ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের মাটির নিচে পর্যাপ্ত জ্বালানি সম্পদ থাকা সত্ত্বেও অতীতের অর্থনৈতিক নীতির কারণে আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল। এর প্রভাব এখন দেশের অর্থনীতি ও শিল্প খাতকে বহন করতে হচ্ছে।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রকল্পটি চালু হলে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের ওপর নির্ভরশীল। তৈরি পোশাক রপ্তানির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় বাজার, রেমিট্যান্সের জন্য মধ্যপ্রাচ্য, আমদানির ক্ষেত্রে ভারত ও চীন এবং উন্নয়ন সহযোগিতায় জাপান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি বলেন, অর্থনীতির মতো রাজনীতিতেও বহুমুখী চিন্তা ও মতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন জরুরি। আন্তর্জাতিক বাস্তবতা ও পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশকে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ বিশ্বকে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে। বিশ্বনেতাদের আলোচনায় এখন এআই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। এ পরিবর্তনের সময়ে তথ্য যাচাই ও বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের দায়িত্ব আরও বেড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিতে গণমাধ্যম দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।
দৈনিক ইনকিলাব-এর সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বক্তব্য দেন।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সাবেক মন্ত্রী, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সুধীসমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!