জাতীয়

গবেষণার ফল মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব

আপডেট: জুন ১৯, ২০২৬ : ০৭:৫১ এএম
গবেষণার ফল মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত ‘লাগসই প্রযুক্তির মানোন্নয়নে চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। ছবিঃ সংগৃহীত

গবেষণার ফলাফল শুধু প্রকাশনা বা কাগজে সীমাবদ্ধ না রেখে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে ব্যবহার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেছেন, গবেষণার প্রকৃত সাফল্য তখনই আসে যখন তা বাস্তব জীবনে প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজে লাগে।

বুধবার (১৭ জুন) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘লাগসই প্রযুক্তির মানোন্নয়নে চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, গবেষণার ফলাফল অবশ্যই ‘ইম্প্যাক্টফুল’ বা প্রভাবসৃষ্টিকারী হতে হবে। শুধুমাত্র গবেষণা প্রকাশ করাই যথেষ্ট নয়; বরং সেই গবেষণার ফল যেন সমাজে বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে, সেদিকে নজর দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, গবেষণার ফলাফলকে প্রোটোটাইপ বা নমুনা আকারে শিল্পখাতে পৌঁছে দিতে হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো সেগুলো পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করে সেবা বা পণ্যে রূপান্তর করতে পারলে তা বাজারজাত করা সম্ভব হবে এবং সমাজে ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করবে।

লাগসই প্রযুক্তি সম্পর্কে সচিব বলেন, “লাগসই প্রযুক্তি মানে সস্তা প্রযুক্তি নয়; বরং সময়োপযোগী, কার্যকর এবং দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রযুক্তি। প্রযুক্তি বাংলাদেশের উপযোগী হওয়া উচিত, বাংলাদেশকে প্রযুক্তির উপযোগী হতে বাধ্য করা উচিত নয়।”

তিনি গবেষণার গুণগত মান বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে বলেন, যেসব উদ্ভাবন মানুষের জীবন ও সমাজে কোনো পরিবর্তন আনতে পারে না, সেসব গবেষণা থেকে সরে আসতে হবে। গবেষণাকে হতে হবে বাস্তবমুখী এবং জনকল্যাণভিত্তিক।

সচিবের মতে, একটি প্রযুক্তিকে লাগসই হিসেবে বিবেচনা করতে হলে তা সহজলভ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব এবং অর্থনৈতিকভাবে টেকসই হতে হবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিটি এমন হতে হবে যাতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সহজে সম্প্রসারণ করা যায় এবং সমাজের সব স্তরের মানুষ এর সুফল ভোগ করতে পারে।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির (এনআইবি) মহাপরিচালক ড. মো. ছগীর আহমেদ, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) চেয়ারম্যান ড. সামিনা আহমদ।

এছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানরা ভার্চুয়ালি জুম প্ল্যাটফর্মে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আশরাফ আলী ফারুকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!