জাতীয়

কুড়িগ্রামে পানিবন্দী ১০ হাজার মানুষ, বিপৎসীমার ওপর দুধকুমারের পানি

আপডেট: জুন ৩০, ২০২৬ : ০৬:৩৯ এএম
কুড়িগ্রামে পানিবন্দী ১০ হাজার মানুষ, বিপৎসীমার ওপর দুধকুমারের পানি

কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করলেও বন্যা পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। জেলার বিভিন্ন এলাকায় এখনো প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দী। দুধকুমার নদের পানি মঙ্গলবার সকালেও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নিম্নাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ অব্যাহত রয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ৯টায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দুধকুমার নদের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। অন্যদিকে তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যার পানিতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। এ ছাড়া ২০৪ হেক্টর ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। পানির নিচে তলিয়ে গেছে আমনের বীজতলা ও বিভিন্ন সবজিক্ষেত, এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরা।

দুধকুমার নদের প্রবল স্রোতে নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের একটি বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকেছে। ভাঙন ঠেকাতে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে।

বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মুরিয়ারহাট এলাকার বাসিন্দা খলিল মিয়া বলেন, বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকেছে। পানি আরও বাড়লে বাড়িঘর ডুবে যাবে। এতে বড় ধরনের দুর্ভোগে পড়তে হবে। একই এলাকার হোসেন আলী বলেন, বাড়িতে পানি ওঠায় রাতেও স্বস্তিতে ঘুমানো যাচ্ছে না। রান্নাবান্না করতেও ভোগান্তি হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকারী নৌকা, শুকনো খাবার ও আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি আরও তিন থেকে চার দিন স্থায়ী হতে পারে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!