রাষ্ট্র পরিচালনা সম্পর্কে জনগণের সঠিক ধারণা গড়ে তুলতে দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ গণমাধ্যমের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি বলেছেন, গণমাধ্যম নির্ভুলভাবে দায়িত্ব পালন করলে জনগণ রাষ্ট্র পরিচালনা সম্পর্কে সঠিক মূল্যায়ন করতে পারে। তবে তথ্য বিকৃত হলে সমাজে বিভ্রান্তি, সংঘাত ও নৈরাজ্যের সৃষ্টি হয়।
আজ শুক্রবার রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের (এলআরএফ) বার্ষিক সাধারণ সভা ও রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষ শুধু তথ্য জানার জন্যই নয়, বিচার প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হচ্ছে, সে বিষয়েও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করেন। তাই বিচার বিভাগ–সংশ্লিষ্ট সংবাদ পরিবেশনে সাংবাদিকদের দায়িত্ব আরও বেশি।
তিনি বলেন, আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ বলা হয়। কারণ, রাষ্ট্র ও সমাজের কার্যক্রমের স্বচ্ছ প্রতিফলন জনগণের সামনে তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গণমাধ্যমের। আয়না যেমন বিকৃত হলে মানুষের প্রকৃত চেহারা দেখা যায় না, তেমনি বস্তুনিষ্ঠতা হারালে গণমাধ্যমও রাষ্ট্র ও সমাজের ভুল চিত্র তুলে ধরে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রসঙ্গ তুলে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে যেমন নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি ভুয়া ছবি, ভিডিও ও তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার ঝুঁকিও বেড়েছে। তাই নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইন সংস্কার ও আধুনিকায়ন জরুরি।
তিনি জানান, সাইবার আইন আধুনিকায়নের লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। এ বিষয়ে গঠিত মন্ত্রিপরিষদ কমিটিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইসিটি মন্ত্রীসহ তিনি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। কার্যকর আইন প্রণয়নে ল’ রিপোর্টার, আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত ও সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের কার্যক্রম কেবল সাংগঠনিক বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়; পরিবর্তিত বিশ্বে সাংবাদিকদের দায়িত্ব ও পেশাগত মানোন্নয়নেও সংগঠনটিকে ভূমিকা রাখতে হবে।
এলআরএফের সভাপতি হাসান জাবেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক সালেহ উদ্দিনসহ সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক নেতারা বক্তব্য দেন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!