হালদা নদীর জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তাঁর ভাষ্য, শুধু আইন প্রয়োগ করে হালদা নদী রক্ষা সম্ভব নয়; এ কাজে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করাও জরুরি।
শনিবার চট্টগ্রামের রাউজানের ছাত্তারঘাট এলাকায় ‘হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়)’–এর আওতায় মৎস্যজীবীদের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সরকার হালদা তীরবর্তী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। নতুন প্রকল্পের আওতায় এলাকার শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্বাবলম্বী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি জানান, হালদা নদীতে মাছের পোনা আহরণকারীদের শিগগিরই স্পিডবোট দেওয়া হবে। তবে এ সহায়তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই অবৈধভাবে মা-মাছ বা মাছের পোনা আহরণ করা যাবে না।
কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, কৃষি সেচের জন্য নির্মিত বিভিন্ন স্লুইসগেট বর্তমানে হালদা নদীতে মাছের স্বাভাবিক চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে যেখানে রাবার ড্যাম নির্মাণের প্রয়োজন রয়েছে, সেখানে বিকল্প হিসেবে সেচ পাম্প সরবরাহের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কৃষি সেচের পাশাপাশি মাছের উৎপাদন বাড়াতে খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। বর্তমান সরকারও কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, হালদা নদী তীরবর্তী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. মোতাহার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন, রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. রাহাতুল ইসলাম, হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন, চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা আক্তারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন স্বাগত বক্তব্য দেন। এছাড়া হাটহাজারী ও রাউজান অঞ্চলের ডিম সংগ্রহকারী প্রতিনিধিরাও বক্তব্য রাখেন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!