রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করতে সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও চতুর্মাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি বলেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক নিরাপত্তা বাস্তবতায় প্রচলিত হুমকির পাশাপাশি সাইবার হামলা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার এবং হাইব্রিড নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
রোববার ঢাকার সেনানিবাসে প্রেসিডেন্টস গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা, প্রতিরোধ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়নে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনী আরও দক্ষ, আধুনিক ও কার্যকর বাহিনীতে পরিণত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পিজিআরকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিশেষায়িত, সুশৃঙ্খল ও পেশাদার ইউনিট উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, রাষ্ট্রপতি, সরকারপ্রধান, বিদেশি অতিথি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেশের মর্যাদা রক্ষায় বাহিনীটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছে।
তিনি পিজিআরের সদস্যদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা এবং প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা অর্জনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ, আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং সর্বক্ষণিক প্রস্তুতির মাধ্যমে ভবিষ্যতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তার সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার বিষয় ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের স্বাভাবিক যোগাযোগ যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও স্মরণ করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের ঘটনায় পিজিআরের পাঁচ সদস্যও প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন। দায়িত্ব পালনকালে নিহত বাহিনীর সব সদস্যের প্রতিও তিনি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
তিনি জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে রাষ্ট্রপতি পিজিআরের ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটেন এবং বাহিনীর সার্বিক সাফল্য, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী প্রধান, বঙ্গভবনের সচিব, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং পিজিআরের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!