কৃষিপণ্য রপ্তানির পুরো প্রক্রিয়া এক জায়গা থেকেই সম্পন্ন করতে রাজধানীর গাবতলীর ভ্যাপার হিট ট্রিটমেন্ট (ভিএইচটি) সেন্টারে আগামীকাল থেকে কোয়ারেন্টাইন অফিস চালু হচ্ছে। এর ফলে রপ্তানিকারকেরা একই স্থানে পণ্য শোধন, প্যাকিং ও কোয়ারেন্টাইনের কাজ শেষ করে সরাসরি বিমানবন্দরে পাঠাতে পারবেন।
সোমবার রাজধানীর গাবতলীতে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) স্থাপিত ভিএইচটি সেন্টারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, কৃষিপণ্য রপ্তানিতে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর মাধ্যমে রপ্তানি প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত হবে। আগামীকাল থেকেই এ সেন্টারে পণ্য ধোয়া, প্যাকিং ও কোয়ারেন্টাইন সম্পন্ন করে সরাসরি রপ্তানির জন্য পাঠানো যাবে।
রপ্তানিকৃত ফলের গুণগত মান বজায় রাখতে বিমানবন্দরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্বল্পমেয়াদি সংরক্ষণাগার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান কৃষিমন্ত্রী। তাঁর মতে, এতে আমসহ দ্রুত পচনশীল কৃষিপণ্যের মান অক্ষুণ্ন রাখা সম্ভব হবে।
আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ফলের চাহিদা বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চীন ইতিমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে বাংলাদেশ থেকে কাঁঠাল আমদানি করেছে। এছাড়া জাপান, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ বাংলাদেশি আম আমদানিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। এসব বাজারে প্রবেশের জন্য আন্তর্জাতিক মানের প্যাকিং ও কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
কৃষিমন্ত্রী জানান, দেশে বছরে প্রায় ২৬ লাখ টন আম উৎপাদিত হলেও অভ্যন্তরীণ বাজারে সীমিত চাহিদার কারণে অনেক কৃষক ন্যায্যমূল্য পান না। এ কারণে কৃষিপণ্য রপ্তানি বাড়ানোকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
রপ্তানি ব্যয় কমাতে বাংলাদেশ বিমানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যান্য আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের সঙ্গেও কার্গো সুবিধা বৃদ্ধি এবং আগাম কার্গো স্পেস সংরক্ষণের বিষয়ে আলোচনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, শুধু আম নয়, লিচু, কাঁঠাল, বরই, টমেটো, পেঁপে ও মিষ্টি আলুসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে এই ভিএইচটি সেন্টারের মাধ্যমে রপ্তানি করা যাবে।
কৃষিপণ্য সংরক্ষণে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সারা দেশে কয়েক হাজার মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সারা বছর স্থিতিশীল দামে কৃষিপণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
রপ্তানিকারকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে আস্থা অর্জনের জন্য বিদেশি ক্রেতাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি শতভাগ রক্ষা করতে হবে। সরকার কৃষিপণ্য রপ্তানিতে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
কৃষি সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!