জাতীয়

নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

আপডেট: জুলা ০৯, ২০২৬ : ০৫:১৫ এএম
নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে জ্ঞান, প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের লক্ষ্যে ‘জাতিসংঘ পুলিশ জ্ঞান ও উদ্ভাবন নেটওয়ার্ক’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতিসংঘ পুলিশ প্রধানদের সম্মেলন (ইউএনকপস-২০২৬)-এর প্রথম প্লেনারি অধিবেশনে বক্তব্যে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি পাঁচ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

দুই দিনব্যাপী (৭–৮ জুলাই) এ সম্মেলনে জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্রগুলোর পুলিশ প্রধান ও নীতিনির্ধারকেরা ‘জাতিসংঘ পুলিশের ভবিষ্যৎ’, ‘পুলিশিংয়ে উদ্ভাবন ও নতুন প্রযুক্তি’ এবং ‘আন্তঃদেশীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা’—এই তিনটি বিষয়ে আলোচনা করছেন।

বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধী চক্রের বিস্তারের কারণে বর্তমান বিশ্বের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। এ বাস্তবতায় প্রচলিত পুলিশিং ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী ও আধুনিক করা জরুরি।

বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের ফর্মড পুলিশ ইউনিট (এফপিইউ) আধুনিকায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি সোয়াত, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, সাইবার ও সংগঠিত অপরাধ তদন্ত, ফরেনসিক, ইমিগ্রেশন পুলিশ এবং ইন্টেলিজেন্স-লেড পুলিশিংয়ের সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রস্তাবিত ‘জাতিসংঘ পুলিশ জ্ঞান ও উদ্ভাবন নেটওয়ার্ক’ গড়ে উঠলে সদস্যরাষ্ট্রগুলো নিজেদের সেরা অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও দক্ষতা বিনিময়ের সুযোগ পাবে, যা বৈশ্বিক পুলিশিংকে আরও কার্যকর করবে।

তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উদ্ভূত নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের অংশ হিসেবে প্রতিবছর একটি পরিবেশ পুলিশিং সম্মেলন আয়োজনেরও প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে শান্তি, মানবতা ও উদ্ভাবনের প্রতি দায়বদ্ধ একটি আধুনিক জাতিসংঘ পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

সম্মেলনে জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি শান্তিরক্ষা কার্যক্রম (ডিপিও), অপারেশনাল সাপোর্ট (ডিওএস) এবং রাজনৈতিক ও শান্তি বিনির্মাণবিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেলরাও অংশ নেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!