জাদুশিল্পকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। একই সঙ্গে জাদুশিল্পীদের কল্যাণে নতুন অর্থবছরের বাজেট থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
বুধবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে জাদুশিল্পী ঐক্য সংস্থা আয়োজিত ‘অভিষেক ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব ঘোষণা দেন মন্ত্রী।
নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, জাদুশিল্পকে পারফর্মিং আর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জনপ্রিয় মাধ্যম হিসেবে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, সৃজনশীল অর্থনীতির (ক্রিয়েটিভ ইকোনমি) অন্যতম সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে জাদুশিল্প শুধু বিনোদনই নয়, কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
মন্ত্রী বলেন, জাদুশিল্পীদের কল্যাণে নতুন অর্থবছরের বাজেট থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রতি মাসে অন্তত একবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে জাদু প্রদর্শনীর আয়োজনের বিষয়েও মন্ত্রণালয়ের সম্মতি রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পাহাড় ও সমতলের সব জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতিকে একত্রিত করে হাজার বছরের পুরোনো বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জাদুশিল্পী ও জাদুশিল্পী ঐক্য সংস্থার প্রধান উপদেষ্টা জুয়েল আইচ। তিনি জাদুশিল্পকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার সরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
স্বাগত বক্তব্যে জাদুশিল্পী ঐক্য সংস্থার সভাপতি শাহীন শাহ দেশে জাদুশিল্পের বর্তমান অবস্থা এবং এর বিকাশে প্রয়োজনীয় উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরিচালক ও কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন, বিপাশা আইচ, সাজেদুর রহমান মুনীম, মো. সাইফুল ইসলাম এবং রোকসানা আখতার রিনিসহ জাদুশিল্পী ঐক্য সংস্থার উপদেষ্টারা।
অনুষ্ঠান শেষে দেশের খ্যাতিমান ও নবীন জাদুশিল্পীদের অংশগ্রহণে একটি জাদু প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!