জাতীয়

আইএমওর বীরত্ব সম্মাননা পাচ্ছেন চট্টগ্রাম বন্দরের ক্যাপ্টেন আসিফ

আপডেট: জুলা ১১, ২০২৬ : ০৪:৪২ এএম
আইএমওর বীরত্ব সম্মাননা পাচ্ছেন চট্টগ্রাম বন্দরের ক্যাপ্টেন আসিফ

কর্ণফুলী নদীর চ্যানেলে নিয়ন্ত্রণ হারানো এলপিজিবাহী একটি জাহাজ থেকে সম্ভাব্য বড় ধরনের শিল্প ও পরিবেশগত বিপর্যয় ঠেকিয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন আসিফ আহমেদ।

তাঁর অসাধারণ সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) তাঁকে ২০২৬ সালের ‘লেটার অব কমেন্ডেশনস ফর এক্সেপশনাল ব্রেভারি অ্যাট সি’ সম্মাননার জন্য মনোনীত করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী ১৪ ডিসেম্বর লন্ডনে আইএমওর সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর হাতে এ সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।

গত ২০ জানুয়ারি কর্ণফুলী চ্যানেলে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী এলপিজিবাহী জাহাজ গ্যাস হারমোনিকে ইউনাইটেড ট্যাংক টার্মিনালের জেটিতে ভিড়ানোর দায়িত্বে ছিলেন ক্যাপ্টেন আসিফ। জাহাজটিতে ৫১৫ মেট্রিক টন প্রোপেন ও ৪ হাজার ৫৭০ মেট্রিক টন বিউটেন গ্যাস ছিল।

এ সময় হঠাৎ কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই জাহাজটির ইঞ্জিন ও স্টিয়ারিং ব্যবস্থা বিকল হয়ে যায়। প্রবল স্রোতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জাহাজটি দ্রুত কাফকো অ্যামোনিয়া জেটির দিকে ধেয়ে যেতে থাকে। দাহ্য গ্যাসবোঝাই জাহাজটির সঙ্গে জেটির সংঘর্ষ হলে বড় ধরনের বিস্ফোরণ, ব্যাপক প্রাণহানি, পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতি এবং চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা ছিল।

সংকটময় মুহূর্তে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্যাপ্টেন আসিফ জরুরি ভিত্তিতে দুটি নোঙর ফেলতে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি প্রচলিত নিয়মের বাইরে বিশেষ কৌশলে নোঙর ব্যবহার করে জাহাজটির গতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তাঁর তাৎক্ষণিক ও দক্ষ পদক্ষেপে জাহাজটি জেটি থেকে মাত্র পাঁচ ফুট দূরে নিরাপদে থেমে যায় এবং সম্ভাব্য বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এ ঘটনার পর জাহাজটির ক্যাপ্টেন ও মালিকপক্ষও ক্যাপ্টেন আসিফ আহমেদকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশংসাপত্র প্রদান করে। সমুদ্রে জীবনবাজি রেখে বড় ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আইএমও প্রতিবছর এ সম্মাননা দিয়ে থাকে।

চট্টগ্রাম বন্দরসংশ্লিষ্টদের মতে, ক্যাপ্টেন আসিফের এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি বাংলাদেশের সামুদ্রিক খাত ও চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতাকেও বিশ্বদরবারে নতুনভাবে তুলে ধরবে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!