জাতীয়

টেকসই উন্নয়নে প্রকৌশলীদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে: মীর শাহে আলম

আপডেট: জুলা ১১, ২০২৬ : ০৮:৫৩ এএম ১২
টেকসই উন্নয়নে প্রকৌশলীদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে: মীর শাহে আলম
উন্নয়ন প্রকল্পে প্রকৌশলীদের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ছবি: সংগৃহীত

দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে প্রকৌশলীদের পরিকল্পনা ও কারিগরি সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

তিনি বলেছেন, উন্নয়ন প্রকল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রকৌশলীদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রকল্পের নকশা, সম্ভাব্যতা যাচাই, বাস্তবায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রতিটি ধাপে প্রকৌশলীদের দক্ষতা কাজে লাগানো হলে প্রকল্পের মান বাড়বে এবং সরকারি অর্থের অপচয় কমবে।

শনিবার রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘APMCE2026 & Success and Failure of Projects from Project Management Viewpoint: Bangladesh and International Context’ শীর্ষক সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মীর শাহে আলম বলেন, প্রকৌশল-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে দক্ষ প্রকৌশলীদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। কারণ উন্নয়ন প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি সিদ্ধান্ত প্রকৌশলীদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানের ভিত্তিতেই নেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, গবেষণার মাধ্যমে পাওয়া তথ্য ও সুপারিশ দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এজন্য গবেষণা কার্যক্রমকে উৎসাহিত করা এবং গবেষণার ফল বাস্তবায়নে সরকারি সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অনেক প্রকৌশলী উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পর প্রকৌশল পেশার পরিবর্তে প্রশাসনিক কাজে আগ্রহী হচ্ছেন। এর ফলে দেশ দক্ষ প্রকৌশলী থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একজন দক্ষ প্রকৌশলী তৈরি করতে দীর্ঘ সময় ও বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো প্রকল্প গ্রহণের আগে ভবিষ্যতের চাহিদা, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, পরিবেশগত প্রভাব এবং দীর্ঘমেয়াদি সুফল বিবেচনায় নিতে হবে।

তিনি বলেন, অনেক সময় প্রকৌশলীদের প্রস্তুত করা প্রকল্প প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট কারিগরি মূল্যায়ন ছাড়াই সংশোধনের জন্য ফেরত আসে। এতে প্রকল্পের বাস্তব চিত্র যথাযথভাবে বিবেচনায় আসে না। তাই পরিকল্পনা প্রক্রিয়ায় প্রকৌশলীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে ডুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পে শুধু নির্মাণকাজ শেষ করাই লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। প্রকল্পের স্থায়িত্ব, রক্ষণাবেক্ষণ, অর্থনৈতিক কার্যকারিতা এবং পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে।

তিনি বলেন, গবেষণা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে উন্নয়ন পরিকল্পনাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করা সম্ভব।

আইইবির সম্মানী সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. সাব্বির মোস্তফা খান বলেন, বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হওয়ায় ভবিষ্যৎ অবকাঠামো নির্মাণে ভূমিকম্প সহনশীল প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতের নগরায়ণ ও যানবাহনের চাপ বিবেচনায় নিয়ে সড়ক নির্মাণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। পাশাপাশি আধুনিক পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

সেমিনারে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী, আইইবির নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!