জাতীয়

সরকার সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতায় বন্যার্ত মানুষের পাশে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় চলছে সমন্বিত তৎপরতা

আপডেট: জুলা ১২, ২০২৬ : ০৫:২৪ এএম
সরকার সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতায় বন্যার্ত মানুষের পাশে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় চলছে সমন্বিত তৎপরতা

দেশজুড়ে টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা, পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।

শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, প্রবল বর্ষণের কারণে বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট পাঁচ জেলার বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ডিআইজি, সিভিল সার্জন ও ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। আগামীকাল রোববার বিভাগীয় কমিশনারদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন তিনি।

মাহদী আমিন জানান, সরকারের সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত চট্টগ্রামে অবস্থান করে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও মাঠপর্যায়ে কাজ করছে।

তিনি বলেন, জরুরি ভিত্তিতে দুই কোটির বেশি টাকার আর্থিক সহায়তা অনুমোদন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে চাল ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের কয়েকটি জেলার এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, উদ্ধারকাজে উপকূলীয় এলাকায় কোস্ট গার্ড, সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেনাবাহিনীকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। পানিবাহিত রোগ ও সাপের কামড় মোকাবিলায় মেডিকেল টিম, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ভ্যাকসিন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পানি নেমে গেলে দ্রুত সড়ক ও রেলপথ সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মাহদী আমিন আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, মৎস্যচাষি, গবাদিপশুর খামারি ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দ্রুত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু করা হবে। বর্তমানে চালু থাকা এক হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। যেসব এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক বিঘ্নিত হয়েছে, সেখানে দ্রুত যোগাযোগব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে।

তিনি বলেন, সরকার বর্তমানে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন—এই তিন ধাপে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!