সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন এবং কৃষি কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
শনিবার দুপুরে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় স্থানীয় প্রশাসন বন্যাকবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও চাষিদের তথ্য সংগ্রহ করছে। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক তালিকা প্রস্তুত হওয়ার পর প্রয়োজন অনুযায়ী কৃষকদের সহায়তা দেওয়া হবে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার বাংলাদেশকে একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও দূষণমুক্ত দেশে পরিণত করতে কাজ করছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সারা দেশে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চলমান রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী নিজেই এর অগ্রগতি নিয়মিত তদারকি করছেন। ফলে এ কর্মসূচিতে অনিয়মের সুযোগ নেই।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যে ফলের উৎপাদন বেশি হয়, সেখানে উৎপাদন আরও বাড়িয়ে দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানি বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার পর্যায়ক্রমে সারা দেশে মিনি কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ করছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় এসব সংরক্ষণাগার স্থাপন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও প্রায় দুই হাজার মিনি কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই কৃষকদের উন্নয়ন, উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং কৃষিকে লাভজনক খাতে পরিণত করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
অনুষ্ঠানে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার, কুমিল্লা সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন, পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে কৃষিমন্ত্রী বৃক্ষমেলা উপলক্ষে আয়োজিত র্যালিতে অংশ নেন এবং মেলার বিভিন্ন ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের স্টল পরিদর্শন করেন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!