দুর্নীতি দমনে শুধু তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া যথেষ্ট নয়; কার্যকর প্রতিরোধ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণও সমানভাবে প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন।
সোমবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি উন্নয়নের অন্যতম বড় প্রতিবন্ধক। এটি জনগণের আস্থা নষ্ট করে, বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় ঘটায়। তাঁর ভাষ্য, কোনো দেশ রাতারাতি দুর্নীতিমুক্ত হতে পারে না; তবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে দুর্নীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
ফারজানা শারমীন বলেন, গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর জনগণের আস্থা পুনর্গঠন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে আরও কার্যকর করা, সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর দিকেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক বাস্তবতার তুলনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। এ জন্য গণতান্ত্রিক শাসন, আইনের শাসন, স্বাধীন প্রতিষ্ঠান ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের সমাধান অবশ্যই সংবিধানসম্মত ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হওয়া উচিত। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনগণের অধিকার রক্ষা এবং জনসেবাকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত প্রান্তিক পরিবারের নারী প্রধানদের প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ৬৭ হাজারের বেশি পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রায় ১ কোটি ৬১ লাখ নিম্ন আয়ের পরিবারকে এতে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য শুধু আর্থিক সহায়তা দেওয়া নয়; বরং দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করা। দীর্ঘমেয়াদে এটি দারিদ্র্যের চক্র ভাঙতে এবং উৎপাদনশীল মানবসম্পদ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
দারিদ্র্য মোকাবিলায় টেকসই কর্মসংস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু ভাতা বা সহায়তা দিয়ে দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব নয়। এর জন্য উৎপাদনমুখী কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও যৌথ সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি বিমসটেকের মাধ্যমে বাণিজ্য, জ্বালানি, যোগাযোগ, জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী।
নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিটি স্তরে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি এবং শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে সমান সুযোগ সৃষ্টি সরকারের অগ্রাধিকারগুলোর একটি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার হলে দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!