স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় মসৃণ উত্তরণ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহায়তা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে এলডিসি গ্রুপ। একই সঙ্গে সহজ শর্তে অর্থায়ন, আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার, জলবায়ু অর্থায়নে প্রবেশাধিকার, বাজারসুবিধা সম্প্রসারণ এবং ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সোমবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে এলডিসি গ্রুপের পক্ষে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। সেখানে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এবং দোহা কর্মসূচির লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে।
ড. তিতুমীর বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, ঋণের চাপ, সীমিত রাজস্ব সক্ষমতা, বৈদেশিক সহায়তা কমে যাওয়া এবং ডিজিটাল বৈষম্যের মতো চ্যালেঞ্জ এলডিসিগুলোর উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে। এসব সংকট শুধু এসডিজি বাস্তবায়ন নয়, উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উত্তরণের পথও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
তিনি জানান, বর্তমানে ১৪টি এলডিসি উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তবে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জের কারণে বাংলাদেশ ও নেপাল উত্তরণের প্রস্তুতির সময়সীমা ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত তিন বছর বাড়ানোর আবেদন করেছে।
এলডিসি গ্রুপের পক্ষ থেকে তিনি পাঁচটি অগ্রাধিকার তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে সহজ শর্তে উন্নয়ন অর্থায়ন বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার সংস্কার, জলবায়ু অর্থায়নে সহজ প্রবেশাধিকার, এলডিসিগুলোর বাজারসুবিধা বজায় রাখা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা উন্নয়নের মাধ্যমে ডিজিটাল বৈষম্য কমানো।
আগামী বছর কাতারের দোহায় অনুষ্ঠেয় দোহা কর্মসূচির মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনাকে বৈশ্বিক অংশীদারত্ব জোরদার এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন ড. তিতুমীর। তিনি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন সহযোগীদের উচ্চপর্যায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, এলডিসিগুলোর বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সংহতি ও কার্যকর বহুপাক্ষিক সহযোগিতার বিকল্প নেই। দোহা কর্মসূচির মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনাকে টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার একটি বাস্তবসম্মত মোড় পরিবর্তনের সুযোগে পরিণত করতে হবে।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!