জাতীয়

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে এগিয়ে যাবে সরকার: আহমেদ আযম খান

আপডেট: জুলা ১৭, ২০২৬ : ০৫:২৭ এএম
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে এগিয়ে যাবে সরকার: আহমেদ আযম খান

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেছেন, সমৃদ্ধ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নে এগিয়ে যাবে। জুলাই শহীদদের চেতনাকে ধারণ করে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার কাজ করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) স্বাধীনতা স্মৃতি চত্বরে শহীদ আবু সাঈদের দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আহমেদ আযম খান বলেন, “আমরা আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম ও মারুফসহ সব জুলাই শহীদের চেতনাকে ধারণ ও লালন করি। বিরোধী দলসহ সবাইকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে চাই। জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে।”

তিনি বলেন, দুই বছর আগে এই দিনে স্বৈরাচারী শাসনামলে পুলিশের গুলিতে রংপুরের আবু সাঈদ, চট্টগ্রামের ওয়াসিম আকরামসহ অনেকে শহীদ হন। ১৬ জুলাইকে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে এ দিনটি জাতির চেতনায় স্মরণীয় হয়ে থাকে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ক্ষমতায় যিনিই আসুন না কেন, জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে শাসক নয়, জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের একটি স্বৈরাচারী শাসনে রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে দেশকে পুনর্গঠনে সময় প্রয়োজন। জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনা বাস্তবায়নে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘জুলাই অধিদপ্তর’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আহমেদ আযম খান বলেন, “সরকার সম্প্রতি দায়িত্ব নিয়েছে। কিছুটা সময় দিন, ইনশাআল্লাহ জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নে একে একে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।”

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক হল, শিক্ষক-শিক্ষার্থী কেন্দ্র (টিএসসি), শহীদ আবু সাঈদ গেট, স্মৃতিসৌধ এবং মডেল মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

রংপুরে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে তিনি বলেন, শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রংপুরে একটি শিল্প পার্ক স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এর আগে মন্ত্রী রংপুর শহরের জুলাই চত্বরের জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে বেরোবিতে প্রস্তাবিত আবু সাঈদ স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন, শোক মিছিল, আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

স্মরণসভায় শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, বেরোবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম, ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ সরকারি কর্মকর্তা, জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত জুলাই যোদ্ধা ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!