জাতীয়

অর্থনীতিকেই বৈদেশিক নীতির মূল ভিত্তি বললেন তথ্যমন্ত্রী

আপডেট: জুলা ১৯, ২০২৬ : ০৫:৩৩ এএম
অর্থনীতিকেই বৈদেশিক নীতির মূল ভিত্তি বললেন তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতির মূল ভিত্তি ভূ-রাজনীতি নয়, বরং অর্থনীতি। আমদানি-রপ্তানি, রেমিট্যান্স ও জনশক্তি রপ্তানির মতো অর্থনৈতিক বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করেই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক পরিচালিত হচ্ছে।

শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতি (বিসিএফএ) আয়োজিত ‘লং লিভ বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ’ শীর্ষক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় চীন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হতে পারে। বর্তমানে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে অর্থনীতি রয়েছে এবং বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগেও চীনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে এর বেশির ভাগই আমদানিনির্ভর। বাংলাদেশ থেকে চীনে রপ্তানির পরিমাণ এখনো এক বিলিয়ন ডলারের নিচে থাকলেও তা বাড়ানোর বিষয়ে চীনের আগ্রহ রয়েছে।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া অর্থনীতির দ্রুত বিকাশ সম্ভব নয়। বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমারের মধ্যে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ উদ্যোগে ভারতসহ আগ্রহী অন্য দেশগুলোকেও স্বাগত জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পারস্পরিক স্বার্থ বিবেচনায় সংকটের স্থায়ী সমাধানে চীনের আরও কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বাস্তববাদী কূটনৈতিক নীতি অনুসরণ করে। চীন ও ভারত থেকে আমদানি, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি এবং মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়া থেকে রেমিট্যান্স—এই অর্থনৈতিক বাস্তবতার ভিত্তিতেই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক পরিচালিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতির সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট নজমুল হক নান্নু। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি ও শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!