জাতীয়

‘আমরা একসঙ্গে ছিলাম, আছি এবং থাকব’

আপডেট: জুলা ২১, ২০২৬ : ০৫:৫৬ এএম
‘আমরা একসঙ্গে ছিলাম, আছি এবং থাকব’

ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমরা অতীতে একসঙ্গে ছিলাম, আছি এবং একসঙ্গেই থাকব। আপনাদের ছেড়ে যাওয়ার কোনো যুক্তিই নেই। তাই আসুন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করি।’

সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ফ্যাসিস্ট সরকারবিরোধী আন্দোলনে শরিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও নৈশভোজের আগে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে ধৈর্য ধরে এগোতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কোনো কোনো বিষয়ে মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু বিভেদ নেই। ভুল বোঝাবুঝিরও কোনো অবকাশ নেই।’

জনগণের সমর্থনকেই যুগপৎ আন্দোলনের সবচেয়ে বড় শক্তি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘যতদিন জনগণের সমর্থন আমাদের সঙ্গে থাকবে, ততদিন আমাদের শক্তিও থাকবে। ৩১ দফা কিংবা জুলাই সনদের আলোকে আমরা দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে পারব।’

একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় যাদের রাজপথে দেখা যায়নি, তারা এখন সেই আন্দোলনের কৃতিত্ব দাবি করতে চায়। ‘গুপ্ত’ শব্দটি ব্যবহার করেই সাধারণ মানুষ তাদের চিনে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বক্তব্যের শুরুতে রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বৈরাচারের চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে আমরা একসঙ্গে বসে ৩১ দফা দিয়েছিলাম। জনগণ সেই ৩১ দফার পক্ষেই রায় দিয়েছে। এখন এটি জনগণের ৩১ দফা, এবং তা বাস্তবায়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

দেশ পরিচালনার শুরুতে সরকারের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ভাষায়, গত ১৭ বছরে অর্থনীতি, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ রাষ্ট্রের প্রায় সব খাতই ভঙ্গুর হয়ে পড়েছিল। সেই অবস্থার মধ্য থেকেই সরকার কাজ শুরু করেছে।

তিনি বলেন, ‘মানুষকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করেছি। শতভাগ সফল হয়েছি কি না জানি না, তবে নতুন সরকার হিসেবে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করছি এবং আগামী দিনেও সেই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে যমুনায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী শরিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। পরে তাঁদের সঙ্গে একই টেবিলে নৈশভোজে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

নৈশভোজ ও মতবিনিময়ে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর)–এর মোস্তফা জামাল হায়দার, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নূরসহ ৪১টি রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!