পটুয়াখালীর কুয়াকাটা-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে আকর্ষণীয় লালচে বর্ণের একটি সামুদ্রিক মাছ, যার নাম সোলজারফিশ (Soldierfish)। অচেনা এই মাছটি দেখতে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হওয়ায় সেটি আলীপুর মৎস্য বন্দরে এনে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
শুক্রবার সকালে মাছটি বন্দরে আনার পর একনজর দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। জেলেদের ভাষ্য, কয়েক দিন আগে গভীর সমুদ্রে মাছটি ধরা পড়ে। ‘মায়ের দোয়া’ ট্রলারের মাঝি ইদ্রিস বলেন, আগে কখনো তাঁর জালে এমন মাছ ওঠেনি। মাছটির আকর্ষণীয় রূপ দেখে সমুদ্রে ফেলে না দিয়ে তীরে নিয়ে আসেন তাঁরা।
আলীপুর বন্দরের মেসার্স সিফাত ফিসের ব্যবস্থাপক মাইনুল ইসলাম শামিম বলেন, মাছটি দেখতে ব্যতিক্রম হওয়ায় বরফে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। তাঁরও আগে এ ধরনের মাছ দেখার অভিজ্ঞতা নেই। ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, মাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Myripristis murdjan। এটি Holocentridae পরিবারের সদস্য এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলসহ বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে পাওয়া যায়।
তিনি জানান, সোলজারফিশ সাধারণত ৫ থেকে ২০০ মিটার গভীরতায় প্রবালপ্রাচীর, পাথুরে তলদেশ ও গুহাময় এলাকায় বসবাস করে। দিনের বেলায় আশ্রয়ে থাকলেও রাতে খাদ্যের সন্ধানে বের হয়। ছোট মাছ, চিংড়ি, জুপ্ল্যাঙ্কটন ও অন্যান্য অমেরুদণ্ডী প্রাণী এ মাছের প্রধান খাদ্য। সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খল ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ প্রজাতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশের উপকূলে এটি খুব বেশি ধরা না পড়লেও বিশ্বব্যাপী মাছটি বিরল নয়।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, সোলজারফিশ মূলত গভীর সমুদ্রের প্রবালপ্রাচীর ও পাথুরে পরিবেশে বসবাসকারী একটি প্রজাতি। স্থানীয় জেলেদের জালে খুব কম ধরা পড়ায় এটি উপকূলীয় মানুষের কাছে অপরিচিত। তিনি বলেন, এ ধরনের অচেনা সামুদ্রিক প্রাণী ধরা পড়লে তা দ্রুত মৎস্য বিভাগকে জানানো উচিত, যাতে প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ ও গবেষণায় কাজে লাগানো যায়।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!