বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক কূটনীতিকে আরও জোরদার করা হচ্ছে।
রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ‘রোডম্যাপ ফর ট্রেড, গ্রোথ অ্যান্ড ইকোনমিক ডিপ্লোম্যাসি-২০২৬: দ্য ক্যাপিটাল ডায়ালগ’ শীর্ষক রুদ্ধদ্বার গোলটেবিল বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছাতে প্রয়োজনীয় মাত্রার বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সে লক্ষ্যেই সরকার বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
তিনি জানান, সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কারেও গুরুত্ব দিচ্ছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই), পুঁজিবাজার, ব্যবসা পরিচালনার সহজীকরণ এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিনিয়োগে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা ও প্রক্রিয়াগত জটিলতা দূর করার বিষয়েও বিভিন্ন সুপারিশ উঠে এসেছে।
তিনি জানান, এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। একই সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যাগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, জ্বালানি, বস্ত্র, তৈরি পোশাক, কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্পে বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি সৃজনশীল অর্থনীতি, ক্রীড়া, সংস্কৃতি এবং ব্লু ইকোনমিকে ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার।
তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক কূটনীতির মাধ্যমে নতুন বাজার, বিনিয়োগের উৎস এবং অর্থনৈতিক সুযোগ খুঁজে বের করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাণিজ্য, অর্থসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। ভবিষ্যতেও বিনিয়োগকারীদের সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধানের লক্ষ্যে এ ধরনের গোলটেবিল বৈঠক অব্যাহত থাকবে।
গোলটেবিল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা অংশ নেন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!