জাতীয়

চীনা বিনিয়োগে উৎপাদনমুখী শিল্পায়নে জোর দিল বাংলাদেশ: ড. তিতুমীর

আপডেট: জুলা ২৭, ২০২৬ : ০৫:৩০ এএম
চীনা বিনিয়োগে উৎপাদনমুখী শিল্পায়নে জোর দিল বাংলাদেশ: ড. তিতুমীর

বাংলাদেশ ও চীনের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ, শিল্পায়ন এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ শুধু বিনিয়োগ নয়, এমন বিনিয়োগ চায় যা উৎপাদন বাড়াবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় দেশের অবস্থান শক্তিশালী করবে।

রোববার রাজধানীতে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্স (এসআইপিজি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ–চীন সম্পর্ক: বর্ধিত আস্থা ও নতুন দিকনির্দেশনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. তিতুমীর বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে অর্থনীতির পুনরুদ্ধার, পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও পুনর্গঠনের পাশাপাশি উৎপাদনভিত্তিক বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং রপ্তানি সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছালেও চীনে বাংলাদেশের রপ্তানি এখনো ১ বিলিয়ন ডলারের কম। এ বৈষম্য কমাতে চীনের শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত বাজারসুবিধা কাজে লাগিয়ে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ এবং কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।

চীনা বিনিয়োগের প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, একটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের বিভিন্ন বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল ও উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিল্প স্থানান্তর এবং বৈশ্বিক মূল্যশৃঙ্খলে যুক্ত হওয়ার সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।

যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ চট্টগ্রামকে আঞ্চলিক লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। এ লক্ষ্যে মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন, রেল যোগাযোগের উন্নয়ন এবং ঢাকা–চট্টগ্রাম দ্রুতগতির রেলপথ নির্মাণ গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি কুনমিং–চট্টগ্রাম মাল্টিমোডাল পরিবহন করিডোর এবং বাংলাদেশ–চীন–মিয়ানমার (বিসিএম) অর্থনৈতিক করিডোর বাস্তবায়নের প্রতিও ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন।

জ্বালানি ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় চীনের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে ড. তিতুমীর বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানি দক্ষতা এবং প্রযুক্তি বিনিময়ে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, নদীশাসন, ড্রেজিং প্রযুক্তি ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে চীনের কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাখাইন থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে চীনের গঠনমূলক ভূমিকা অব্যাহত থাকবে বলে বাংলাদেশ আশা করে।

ড. তিতুমীর বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক সর্বোচ্চ কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। এখন সেই সম্পর্কের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সেমিনারে নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, গবেষক, চীনা বিশেষজ্ঞ, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!