জাতীয়

মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করলেন ইন্দোনেশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর

আপডেট: জুলা ২৭, ২০২৬ : ০৫:৩৫ এএম
মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করলেন ইন্দোনেশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর

মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর আগেই পদত্যাগ করেছেন ইন্দোনেশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক ইন্দোনেশিয়া–এর গভর্নর পেরি ওয়ারজিয়ো। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে দেশটির অর্থনীতি ও মুদ্রাবাজারে চাপের মধ্যে এ পদত্যাগের ঘোষণা এলো।

সোমবার ইন্দোনেশিয়ার সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সচিব প্রসেতিও হাদি সাংবাদিকদের বলেন, প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো পেরি ওয়ারজিয়োর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। গত ২৫ জুলাই জমা দেওয়া পদত্যাগপত্রে তিনি ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করেছেন। ২০১৮ সালে দায়িত্ব নেওয়া পেরির দ্বিতীয় মেয়াদ ২০২৮ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

তবে পদত্যাগের বিষয়ে সরকার বা পেরি ওয়ারজিয়োর পক্ষ থেকে আর কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। প্রসেতিও হাদি বলেন, প্রায় সাত বছর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট পেরি ওয়ারজিয়োকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং তাঁর নিষ্ঠা ও অবদানের প্রশংসা করেছেন।

সরকার জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ উপ-গভর্নর ডেস্ট্রি দামায়ান্তিকে ভারপ্রাপ্ত গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ইন্দোনেশিয়ার মুদ্রা রুপিয়াহর ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। আর্থিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রুপিয়াহ প্রায় ৭ শতাংশ মূল্য হারিয়ে এশিয়ার সবচেয়ে দুর্বল পারফরম্যান্স করা মুদ্রায় পরিণত হয়েছে।

মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে চলতি বছরে ব্যাংক ইন্দোনেশিয়া নীতিগত সুদের হার মোট ১০০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশে উন্নীত করেছে। জ্বালানি তেল আমদানিনির্ভর ইন্দোনেশিয়ায় সরকার ভর্তুকিযুক্ত জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত রাখলেও এতে ভর্তুকির ব্যয় বেড়েছে। জুন মাসে দেশটির মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে সরকারি ব্যয় কমানোর দাবিতে সম্প্রতি দেশটিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভও হয়। বিশেষ করে বহু বিলিয়ন ডলারের বিনামূল্যে খাবার কর্মসূচির ব্যয় কমানোর দাবি ওঠে। পরে সরকার কর্মসূচিটির পরিধি সীমিত করে। একই সঙ্গে ভর্তুকিবিহীন জ্বালানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তও সমালোচনার মুখে পড়ে।

এদিকে চলতি বছরে ইন্দোনেশিয়ার শেয়ারবাজারের বাজারমূল্য প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে গেছে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!