স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ঢাকা গড়ে তোলা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, শুধু পরিকল্পনা বা সভা-সমাবেশ নয়, মাঠপর্যায়ে কার্যক্রমের দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বুধবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বৃক্ষরোপণ, সৌন্দর্যবর্ধন এবং ময়লা-আবর্জনা অপসারণ কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভার শুরুতে দুই সিটি করপোরেশনের চলমান বৃক্ষরোপণ ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এ সময় জানানো হয়, নগর পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়ন কার্যক্রমে বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে সম্পৃক্ত করে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি উদ্যোগের সুফল যেন নগরবাসী বাস্তবে অনুভব করতে পারেন, সে লক্ষ্য সামনে রেখে পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে হবে। চলমান কর্মসূচির গতি আরও বাড়ানোর নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, নতুন বড় প্রকল্প হাতে নেওয়ার আগে পাইলট প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। সফল উদ্যোগগুলো পর্যায়ক্রমে বৃহত্তর পরিসরে বাস্তবায়ন করা হবে।
মীর শাহে আলম কোথায় কোথায় বৃক্ষরোপণ, সৌন্দর্যবর্ধন এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, তার একটি হালনাগাদ তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি নতুন করে কোথায় বৃক্ষরোপণ, সৌন্দর্যবর্ধন ও ময়লার বিন স্থাপন করা হয়েছে, সে–সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করে মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপনের নির্দেশনা দেন।
তিনি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে নিয়মিত তদারকি ও মাঠপর্যায়ের কার্যকর মনিটরিংয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর তদারকির বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিটি উদ্যোগ বাস্তবসম্মত, কার্যকর ও দৃশ্যমান হওয়া জরুরি। সরকারের ‘ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন সিটি’ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান, প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরীসহ স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!