জাতীয়

ফায়ার স্টেশন বাড়িয়ে ৯০০ করার পরিকল্পনা, আধুনিকায়নে জোর

আপডেট: জুলা ৩০, ২০২৬ : ০৫:০৮ এএম
ফায়ার স্টেশন বাড়িয়ে ৯০০ করার পরিকল্পনা, আধুনিকায়নে জোর

দেশের দুর্গম ও সেবাবঞ্চিত এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে পর্যায়ক্রমে ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা ৯০০–তে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও দ্রুত সাড়াদান সক্ষম বাহিনীতে রূপান্তরের নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে সারা দেশে ৫৩৮টি ফায়ার স্টেশন রয়েছে। সেবার পরিধি বাড়াতে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নতুন ১২টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণ এবং ৮টি স্টেশন পুনর্নির্মাণের কাজ চলছে। এসব প্রকল্প ইতোমধ্যে একনেকের অনুমোদন পেয়েছে এবং বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

নির্মাণাধীন ও পুনর্নির্মাণাধীন স্টেশনগুলো ঢাকা, গাজীপুর, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, মাদারীপুর, নওগাঁ, পাবনা, যশোর, কুষ্টিয়া, সিলেট, হবিগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও জামালপুর জেলায় অবস্থিত।

মহাপরিচালক জানান, মিরপুর ও সদরঘাটে ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের জন্য দুটি বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এ ছাড়া ১০০টি ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহ এবং মিরপুর-১০ এলাকায় ভূমিকম্প-সহনশীল আধুনিক সদর দপ্তর নির্মাণের কাজও চলমান।

প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে বিশ্বের সর্বোচ্চ উচ্চতার ৬৮ মিটার টার্নটেবল ল্যাডার, রিমোট কন্ট্রোল ফায়ারফাইটিং ভেহিকল, হাইড্রোলিক উদ্ধার সরঞ্জাম ও সার্চ ভিশন ক্যামেরাসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি ইতোমধ্যে সংযোজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ফায়ারফাইটিং ড্রোন যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

জাহেদ কামাল বলেন, জরুরি সেবা আরও কার্যকর করতে ইমার্জেন্সি রেসপন্স কন্ট্রোল সেন্টার (ইআরসিসি) চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের হটলাইন ১০২ চালুর পাশাপাশি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এর মাধ্যমেও সেবা পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সদস্যদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আধুনিক করা হয়েছে। মিরপুর থেকে প্রশিক্ষণ কমপ্লেক্স পূর্বাচলে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং গজারিয়ায় আন্তর্জাতিক মানের একটি ফায়ার একাডেমি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাসায়নিক দুর্ঘটনা, উচ্চ ভবনে উদ্ধার, ভূমিকম্প-পরবর্তী অনুসন্ধান, ডুবুরি ও পারমাণবিক স্থাপনা–সংক্রান্ত বিশেষায়িত প্রশিক্ষণও নিয়মিত দেওয়া হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার বলেন, নগরায়ণ, বহুতল ভবন, শিল্পকারখানা ও রাসায়নিক গুদাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকিও বাড়ছে। এ বাস্তবতায় সংস্থাটির অর্গানোগ্রাম পুনর্গঠন করে সদস্যসংখ্যা ৩০ হাজারের বেশি করার প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে।

এদিকে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের উপসহকারী পরিচালক মো. শাহজাহান শিকদার বলেন, আধুনিক যন্ত্রপাতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিসকে একটি প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ ও দ্রুত সাড়াদান সক্ষম জরুরি সেবাবাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলছে।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!