জাতীয়

কুমিল্লাকে ঘিরে ১০ বছরের মহাপরিকল্পনা, ডিজিটাল সেবায় জোর

আপডেট: আগ ০১, ২০২৬ : ০৪:৫৯ এএম
কুমিল্লাকে ঘিরে ১০ বছরের মহাপরিকল্পনা, ডিজিটাল সেবায় জোর

আগামী এক দশকের মধ্যে কুমিল্লাকে পরিকল্পিত, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব আধুনিক নগরীতে রূপ দিতে ৩৪১ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে নবগঠিত কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কুউক)।

ডিজিটাল নাগরিকসেবা, রিং রোড, ভূমি পুনর্বিন্যাস, জলাধার সংরক্ষণ, পর্যটন জোন এবং আইটি পার্ক নির্মাণকে এই পরিকল্পনার অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কুউকের প্রথম চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু বলেন, শুরু থেকেই প্রযুক্তিনির্ভর, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও নাগরিকবান্ধব একটি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে।

গত ১০ এপ্রিল ‘কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন’ গেজেট আকারে প্রকাশের পর ১১ জুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন উদবাতুল বারী আবু। বর্তমানে কুমিল্লা মহানগরের জিরো পয়েন্টে গৃহায়ন ও গণপূর্ত ভবনে কুউকের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

চেয়ারম্যান জানান, নাগরিক সেবা সহজ করতে দ্রুত ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) চালু করা হবে। ভবন নির্মাণের অনুমতি, নকশা অনুমোদন, ফি পরিশোধসহ বিভিন্ন সেবা অনলাইনে সম্পন্ন করা যাবে। এতে হয়রানি, সময়ক্ষেপণ ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, কুউকের অধিক্ষেত্র শুধু কুমিল্লা সিটি করপোরেশনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রস্তাবিত ৩৪১ বর্গকিলোমিটারের আওতায় আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ, বুড়িচং উপজেলার অংশ, ময়নামতি, মোকাম ইউনিয়ন ও বাগমারা এলাকাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া চলছে।

নগরীর যানজট কমাতে নতুন মাস্টারপ্ল্যানে রিং রোড নির্মাণ, বাণিজ্যিক কার্যক্রম বিকেন্দ্রীকরণ এবং আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বিত নগর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে ময়নামতি ও শালবন বিহারের ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে পর্যটন জোন এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি আধুনিক আইটি পার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান।

ভূমি ব্যবস্থাপনায় নতুন আইনের আওতায় ভূমি পুনর্বিন্যাস ও পুনঃউন্নয়ন পদ্ধতি চালুর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন কুউক চেয়ারম্যান। তাঁর ভাষ্য, প্রচলিত জমি অধিগ্রহণের পরিবর্তে জমির মালিকদের অংশীদার করে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের পর উন্নত সুবিধাসম্পন্ন প্লট মালিকদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

পরিবেশ সংরক্ষণকে অগ্রাধিকার দিয়ে কুমিল্লার ঐতিহাসিক পুকুর, দিঘি ও জলাধার ডিজিটাল ম্যাপে অন্তর্ভুক্ত করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এসব জলাধার ভরাট বা দখলের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি থাকবে।

তবে নতুন প্রতিষ্ঠান হিসেবে দক্ষ জনবল নিয়োগ, প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন উদবাতুল বারী আবু।

তিনি বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ণ শুধু সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়; নাগরিকদেরও আইন মেনে উন্নয়ন কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কুমিল্লাকে একটি বাসযোগ্য, টেকসই ও আধুনিক নগরীতে পরিণত করা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরএস-রাসেল

০ মন্তব্য


No comments yet. Be the first to comment!