বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় চারটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর অব্যয়িত ১ কোটি ৭৮ লাখ ৭৯ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। প্রকল্পটির জন্য মোট ৪ কোটি ৩১ লাখ ৭৮ হাজার টাকা বরাদ্দ ছিল।
শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাবতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে উপজেলার নেপালতলী, নশিপুর, সোনারায় ও দক্ষিণপাড়া ইউনিয়নের প্রায় ৩ হাজার ৬০০ মিটার দীর্ঘ চারটি খাল পুনঃখনন করা হয়। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে।
গত ২০ এপ্রিল প্রথম খালের কাজ উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে পর্যায়ক্রমে অন্য খালগুলোর কাজ শেষ হয় ২৯ জুন। প্রকল্পের আওতায় খাল পুনঃখননের পাশাপাশি দখলমুক্ত করা, সরকারি নকশা অনুযায়ী পাড় নির্মাণ, পানি চলাচলের জন্য পাইপ স্থাপন, প্রয়োজনীয় স্থানে কালভার্ট নির্মাণ এবং দুই তীরে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়।
পিআইও কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিকের মজুরি, যন্ত্রপাতি পরিচালনা, পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে মোট ২ কোটি ৫২ লাখ ৯৯ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। ফলে অব্যয়িত থাকে ১ কোটি ৭৮ লাখ ৭৯ হাজার টাকা, যা সরকারি বিধি অনুসারে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
গাবতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মফিদুল ইসলাম বলেন, নির্ধারিত নকশা অনুযায়ী খালগুলো ৯ ফুট গভীর এবং ৩০ থেকে ৩৫ ফুট প্রস্থে পুনঃখনন করা হয়েছে। কয়েকটি স্থানে বৃষ্টির কারণে খালের পাড় মেরামতের প্রয়োজন হলেও কাজের মান বজায় রাখা হয়েছে।
ইউএনও মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, প্রকল্প এলাকার কয়েকটি অংশে খালের প্রস্থ প্রাক্কলনের তুলনায় কম হওয়ায় ব্যয়ও কম হয়েছে। এ কারণে অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রশাসন এ ধরনের নীতি অনুসরণ করছে বলেও তিনি জানান।
আরএস-রাসেল
No comments yet. Be the first to comment!